কাপ্তাই উপজেলা হতে কাউখালীর ঘাঘড়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৯৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। যানবাহন চলাচলে বাঁকগুলো আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এসব বাঁকের কারণে যান চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ওইসব দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আপাই মারমা বলেন, কাপ্তাই উপজেলার বরইছড়ি থেকে সড়কটি ঘাঘড়া পর্যন্ত গিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের সাথে মিশেছে। সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বড় বাঁক রয়েছে প্রায় ৯৭টি। তবে ছোট বাঁকের হিসাব করলে বাঁকের সংখ্যা আরো বেশি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ওয়াগ্গা বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবিমল তংচংগ্যা জানান, বাসে যখন উঠি তখন সামনে বাঁক ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। সবগুলো বাঁকই ঝুঁকিপূর্ণ। কখনো কখনো বাঁকের পাশে গভীর খাদ রয়েছে। একটু অসতর্ক হলেই গাড়ি গভীর খাদে পড়ার সম্ভাবনা। স্থানীয় সরকারি কর্মচারি মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, আমি প্রতিদিন কাপ্তাই রাঙ্গামাটি বাসে যাতায়াত করি। অসংখ্য বাঁকের কারণে রাস্তার সামনে কিছুই দেখা যায় না। বেশি সমস্যায় পড়তে হয় বৃষ্টির সময়। আর রাতে চলাচল করাও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছাড়াও এই সড়কে বাঁকের কারণে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। বাস চালক বাবুল মিয়া জানান, ঘাঘড়া সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। কাপ্তাই ছাড়াও রাজস্থলী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি যাতায়াতের জন্য এটি একমাত্র সহজ সড়ক পথ। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অনেকে কক্সবাজার যাতায়াতের জন্যও এই সড়ক ব্যবহার করেন। সেনাবাহিনীর গাড়িও প্রতিনিয়ত সড়কে চলাচল করে। কিন্তু সড়কে অসংখ্য বাঁক থাকায় যাতায়াতে ঝুঁকির পাশাপাশি সময় বেশি লাগছে।
কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী সড়কে বেশি বাঁক থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আগে কাপ্তাই থেকে রাঙ্গামাটি যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল কর্ণফুলী নদী পথ। ৯০’র দশকে পাহাড়ের ঢাল কেটে সড়ক তৈরি শুরু করা হয়। ভৌগোলিক কারণে পাহাড়ি পথে বাঁকের সংখ্যা বেশি রয়েছে।
