গৌরনদীতে ব্যবসায়ীর লাশ নিয়ে মিছিল করে থানা ঘেরাও

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২০:১৩
মাদারীপুর জেলার ডাসার থানা পুলিশের নির্যাতনে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সালতা বাজারের নিহত ব্যবসায়ী শাহিন মোল্ল¬¬ার লাশ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও গ্রামবাসীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে যুবলীগ নেতা লিটন বেপারী, নাঈম আকন, মফিজ উদ্দিনসহ কমপক্ষে ১৫ জন মিছিলকারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তায়েবকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। থানা ঘেরাও ও হামলার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে ডাসার থানা পুলিশ বাদী হয়ে গৌরনদী এলাকার পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ গৌরনদীর মাগুরা গ্রামের জসিম উদ্দিন ও রাসেল সরদারকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শাহিনের বড় ভাই মনির মোল্ল¬া বলেন, উপজেলার সীমান্তবর্তী ব্রিজের ওপর থেকে ডাসার থানার এসআই নাজমুল হাসান গত ৮ জুন রাতে শাহিন ও মুকিত আকন এবং শাহআলম চৌকিদারের দেহ তল্লাশী করেন। তাদের কাছে কিছু না পেলেও স্থানীয় পুলিশের সোর্স নজরুল ইসলামের ইন্দনে আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঐ রাতেই ৫১ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে স্বজনরা মুকিত ও শাহআলমকে ছাড়িয়ে নেয়। শাহিনের মা রেবা বেগম বলেন, আমি ও আমার বোন সেলিনা বেগম ডাসার থানায় গিয়ে দারোগা নাজমুলের হাতে পায়ে ধরে অনুনয় বিনয় করি। সে টাকা না হলে ছাড়বে না বলে জানিয়ে দেন। পরে টাকা যোগার করে পরের দিন সকালে থানায় গেলে জানতে পারি শাহিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে মাদারীপুর জেলখানায় গত শনিবার রাতে শাহিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে মাদারীপুর হাসপাতালে নেয়ার পর রাতে তার মৃত্যু হয়। ডাসার থানার এসআই নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে। পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু গৌরনদীর বাঙ্গীলা গ্রামে গত সোমবার রাতে পুলিশ আসার খবর পেয়ে ভয়ে পালাতে গিয়ে সলেমান সরদার (৪০) নামে এক ব্যবসায়ী হার্টএ্যাটাকে মারা গেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, পান ব্যবসায়ী ও বার্থী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সলেমান সরদারের স্ত্রী রিজিয়া বেগমের সাথে প্রতিবেশী বার্থী ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মিনু বেগমের বড় বোন শাহিনুরের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জেরে ঘটনার দিন গভীর রাতে মিনু মেম্বরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি সলেমান সরদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেভ করে। এ সময় মিনু সলেমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ এসেছে বলে ভয় দেখায়। ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হার্টএ্যাটাক করে সঙ্গে সঙ্গে সলেমান সরদার মারা যান। গৌরনদী থানার ওসি আবুল কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।