গোপালদী বাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
চরম দারিদ্র্যতাকে পরাজিত করে সাফল্যের মালা পরেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ৪ মেধাবী শিক্ষার্থী। শত প্রতিকূলতাকে জয় করে ওরা হেসেছে বিজয়ের হাসি। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
পিঠা বিক্রেতার ছেলে সবুজ
মিয়া পেয়েছে জিপিএ-৫
বাড়ির সামনে বিকেলে পিঠা বিক্রি করে বাবা। পিতার সাথে পিঠা বিক্রি করে অনেক কষ্ঠে ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করেছিল সবুজ মিয়া। মেধাবী সবুজ দারিদ্র্যতার কাছে হার মানেনি। সে দারিদ্র্যতাকে পরাজিত করে জিপিএ-৫ পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সবুজ মিয়া চৈতনকান্দা গোলাম মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশনন্দির টেটিয়া গ্রামের ফজলুল হক ও মাতা আশেদা বেগম ছেলের ভাল ফলাফলে খুশি হলেও অভাবের সংসারে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে। ছেলের পরবর্তী পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত তারা। সবুজ মিয়া বিবিএ পড়তে চায়।
টিউশনি করে পড়ালেখা
চালিয়েছে মাঈনউদ্দিন
অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া মাঈনউদ্দিন টিউশনি করে অনেক কষ্টে ফরম ফিলাপ করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এখন সে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। মাঈনউদ্দিন ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী। কিন্তু দারিদ্র্যতা ওদের গ্রাস করে নিয়েছে। পড়াশুনার অদম্য স্পৃহা মাঈনউদ্দিনকে এতদূর নিয়ে এসেছে। এখন একটাই চিন্তা কিভাবে সে আরো সামনে এগিয়ে যাবে।
নানা বাড়িতে আশ্রয় নেয়া রিপন
সকলের মুখ উজ্জ্বল করেছে
পিতা মাছ বিক্রেতা। হাঁপানি রোগী। তাই ঠিকমতো মাছ বিক্রিও করতে পারেন না। অভাবের কারণে ছেলে রিপন মিয়া আশ্রয় নেয় নানা বাড়িতে। মেধাবী ছাত্র রিপন চৈতনকান্দা গোলাম মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সকলের মুখ উজ্জ্বল করেছে। পৈতৃক নিবাস তাতুয়াকান্দা গ্রামে হলেও অভাবের তাড়নায় রিপন মিয়া দয়াকান্দা গ্রামে নানা বাড়িতে চলে আসে। এখানে থেকেই সে পড়াশুনা করতো। সংসারে দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সে বড়। রিপন উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী।
দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই
করে চলেছে শিরিনা আক্তার
তিন ভাই এক বোনের মধ্যে শিরিনা আক্তার সবার বড়। মলিন মুখে শুধু বইয়ের পাতায় নিজের মুক্তির পথ খুঁজতেন শিরিনা আক্তার। দারিদ্র্যতার সাথে নিরন্তর লড়াই করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে শিরিনা। শিরিনা আক্তার দয়াকান্দা গ্রামের আছমত আলীর মেয়ে। তার মা সামসুন্নাহার তাকে পড়াশোনায় উত্সাহ দিতেন। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিরিনা আক্তার।
