ঝুঁকির মুখে শতাধিক গ্রাম
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রমত্তা যমুনার ভয়াবহ ভাঙ্গনের আশংকায় সিরাজগঞ্জের চৌহালীর মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ উপজেলার শত শত গ্রাম ও হাজার হাজার একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এবারও ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চৌহালী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছরই যমুনায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বেকার ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। বস্তুত যমুনার ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় উপজেলাটিই এখন বিলীন হওয়ার পথে। উপজেলা পরিষদসহ সরকারি অন্যান্য স্থাপনা রক্ষায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭১৫ মিটার দৈর্ঘের বাঁধ নির্মিত হলেও রক্ষা পায়নি উপজেলা হেড কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত বছর বর্ষা মৌসুমে সদ্য নির্মিত ওই বাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট ধসে যায়।
মিটুয়ানী বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই মিটুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেছে। যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুর কাদের কারিগরি মহাবিদ্যালয়, মিটুয়ানী বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিটুয়ানী মহাবিদ্যালয়, বিবিএম মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়, খাস পুকুরিয়া বিএম উচ্চ বিদ্যালয়, কয়লা উচ্চ বিদ্যালয়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, কেকে জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আর মাশুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাস ধোলাই মাদ্রাসা, বোয়াল কান্দি দাখিল মাদ্রাসাসহ অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যমুনা গর্ভে চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুদ্দিন এহিয়া জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙ্গন শুরু হলে চৌহালী উপজেলার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। যে কোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে উপজেলা নির্বাচন অফিস, রেজিষ্ট্রি অফিস, সাবেক কোর্ট ভবন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, থানা কোয়ার্টার, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা মসজিদসহ উপজেলা হেড কোয়ার্টারের অবশিষ্ট স্থাপনা সমূহ। এছাড়াও খাস পুকুরিয়া, মিটুয়ানী, বাগুটিয়া, চৌবাড়ীয়া, চৌদ্দরসি, খাস কাউলিয়া, ধলাই, চর জাজিরা, স্থল বাজার, খাস ধলাই, বোয়াল কান্দিসহ প্রায় ৫০টি গ্রাম ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে।
সমপ্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এনায়েতপুরের আড়কান্দি ও বাঐখোলার চরে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আড়কান্দি চরের আব্দুল লতিফ আকন্দ জানান, যমুনা নদীর এ ভাঙ্গন এক সপ্তাহ স্থায়ী হলে এলাকার শত শত মানুষকে পথে বসতে হবে।
চৌহালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, ভাঙ্গন থেকে উপজেলাকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সাময়িকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জোতি প্রসাদ ঘোষ জানান, চৌহালীকে রক্ষার জন্য এডিবির অর্থায়নে ১২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রধান কার্যালয়ে ফ্যাক্স বার্তা পাঠানো হয়েছে।
