কম্বোডিয়ায় কৃষিতে বিনিয়োগের সুযোগ চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:০৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সফররত প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের কাছে সেদেশের কৃষি খাতে চুক্তি ভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা যাতে কম্বোডিয়ায় চুক্তিভিত্তিক কৃষি কাজ করতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টিতে হুন সেনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন শেখ হাসিনা। বাসস ও বিডি নিউজ বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শেষে গতকাল পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক আরো বলেন, শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে দুই দেশ সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দেশ দুইটি এ বিষয় ঐকমত্যে পৌঁছায়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কম্বোডিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, ভারতসহ মেকং অববাহিকার অপর পাঁচটি দেশ নিয়ে ছয়টি দেশের সহযোগিতা জোট রয়েছে। ঢাকা যাতে ওই গ্রুপে যোগ দিতে পারে এ জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী-কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর জবাবে হুন সেন বলেন, ঢাকা ওই গ্রুপে যোগ দিতে চায় এতে তিনি আগ্রহবোধ করছেন এবং তিনি শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন যে, এ বিষয়ে তিনি কাজ করবেন। গতকাল বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে তিনটি চুক্তি ও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন-এর উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে ‘যৌথ কমিশন’ গঠনের জন্য প্রথম চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়। কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী হর ন্যামহং এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে তারা চুক্তিপত্র বিনিময় করেন। এরপর বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ‘কাউন্সিল ফর ডেভেলপমেন্ট’-এর মহাসচিব ও মন্ত্রী চক চেন্দা সোপিয়ে নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে তৃতীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং কম্বোডিয়ার সংস্কৃতি ও চারুকলা বিষয়ক মন্ত্রী প্রোয়ুরঙ সাকোনা নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। একমাত্র সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা সংক্রান্ত। কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং কম্বোডিয়ার কৃষি, বনায়ন ও মত্স্য সম্পদ মন্ত্রী ওইউক রাবুন নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি কম্বোডিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী হর ন্যামহং এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজ নিজ দেশের পক্ষে ১৭ দফা যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।