এমন হাল হবে, তা হয়তো কখনও ভাবেননি স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে পাঁচ গোল খেয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় অঘটনের শিকার হয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাদের উপর ফুটবল দুনিয়ার আলাদা নজর ছিল এবারের বিশ্বকাপের আসরে। তারাই সবাইকে হতাশ করেছে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে স্পেনের যে অসহায়ত্ব দেখা গেছে তা নিয়ে ফুটবল পন্ডিতরাও বুঝতে পারছেন না বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এই হাল কেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের সফল গোলকিপার ক্যাসিয়াসকে যেভাবে নাকানি চুবানি দিয়ে গোলের পর গোল করেছেন নেদারল্যান্ডসের ফুটবলাররা, তাতে চিলিও বেশ উত্ফুল্ল। স্পেনের প্রতিপক্ষ আজ চিলি। চিলির কোচ জর্জে সামপাওলি স্পেনকে হারানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। রিও ডি জেনেরিওতে এসে চিলির কোচ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ‘নেদারল্যান্ডসের কাছে পাঁচ গোলে হেরেছে বলে আমরা সুযোগ নিতে চাই। একথা কেউ মনে করলে আমি তার সাথে নেই। চিলি জিতবে চিলির মতো করে। ব্রাজিলে আসার আগেই আমরা স্পেনকে নিয়ে ভেবে রেখেছি। যেটা আজ আপনারা মাঠে দেখতে পাবেন।’
স্পেনের কোচ তার দল নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় আছেন। প্রথম ম্যাচে হোচট খেয়ে দিশেহারা দেল বস্ক। স্প্যানিশদের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না। ব্রাজিলে আসা স্প্যানিশরা প্রথম দিন খুব উল্লাস করলেও তারা নেদারল্যান্ডসের ম্যাচের পর টুশব্দটিও করছে না। এমন হারে লজ্জায় পড়েছেন স্প্যানিশরা। তারপরও দেল বস্কের উপর আস্থা আছে সবার। চিলিকে হারিয়ে বুঝিয়ে দিতে চান দুইবার ইউরো ফুটবলে এবং বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন তারা এমনি এমনি হননি। রিও ডি জেনেরিও মারাকানার মাঠে স্পেনের জন্য আজ ঘুরে দাঁড়াবার দিন। আর চিলি বলছে বিদায় নেয়ার টিকিট কাউন্টারের পথটা দেখিয়ে দেবেন। নিশ্চিত বাদ না হলেও বিদায় ঘন্টা বেজেই যাবে প্রায়।
গত আসরের দুই ফাইনালিস্টের ম্যাচে স্পেনের যে দুর্দশা ঘটে গেছে তা অবাক করার মতোই। সত্যিই রবেন, ভ্যান পার্সিদের কাছে নাস্তানাবুদ ক্যাসিয়াস, জাভি, ফাব্রেগাস, ইনিয়েস্তারা। ২০১০ সালে এই হল্যান্ডকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তাদের কাছে কিনা ১-৫ গোলে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে এখন টিকে থাকার লড়াই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। আজ চিলির বিপক্ষে লজ্জা ঢাকার ম্যাচ। সেই সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষা আর রেসে থাকাটাই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বসেরাদের জন্য।
১৩ জুন স্পেনের জালে হল্যান্ডের ৫ গোলের ৩টির দায় পড়ছে ইকার ক্যাসিয়াসের ওপর। এমন পারফরমেন্স ম্যারাডোনার দেখা সবচেয়ে বাজে গোলকিপিং বলে মন্তব্য করেছেন ফুটবল লিজেন্ড। অন্যদের পারফরমেন্সও চোখে পড়ার মত ছিল। আসলে কিসে যেন বধ হয়েছিল স্পেন ফুটবলাররা। পেনাল্টি থেকে আলোনসোর গোলের পরই যেন অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ডাচরা। বিশ্ব দেখলো রবিন ভ্যান পার্সি ও রবেনের জোড়া গোল।
হয়তো চিলির বিপক্ষে ম্যাচটি দুঃসহ স্মৃতি ডেকে আনবে না দেল বস্কের জন্য। যদিও শঙ্কাটা একটু থেকেই যায়। চিলি দূরন্ত সূচনা করেছে প্রথম ম্যাচে ৩-১ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। ঐ ম্যাচে গোল পাওয়া আলেক্সিস সানচেজ, বালদিবিয়া, বোশেজোরা আরো দ্বিগুণ উজ্জীবনী শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থেকে তারা এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে।
বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাস উপহাস যেন তাড়া করছে স্পেনকে। তাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণই বটে! ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০০২ বিশ্বকাপে কোন গোল না করে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে। ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১০ বিশ্বকাপে জয়বিহীন ঘরে ফেরে। এবার স্পেনের ভাগ্যেও কি এমনটি ঘটবে? প্রশ্নটা আসতেই পারে। ফুটবলে অবশ্য যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। না হলে জিদান কেনই বা হঠাত্ ক্ষেপে গিয়ে টুস মেরে দেশকে বঞ্চিত করবেন চ্যাম্পিয়ন থেকে। এ ঘটনা জানার পরও এবার পর্তুগালের ডিফেন্ডার পেপে জার্মানীর স্ট্রাইকার থমাস মুলারকে টুস মেরে লালকার্ড দেখে দলকে বিপদে ফেলবেন। ফল দলের হার ০-৪ গোলে। আর থমাস মুলারের হ্যাটট্রিক রেকর্ড।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যানে এগিয়ে দেল বস্কের শিষ্যরা। ৬ বার মুখোমুখিতে ৫ বার জয় তাদের। একটিতে হার স্পেন হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে খেলবে আজ। ফ্যবিগাসের কথায়ও সে প্রতিফলন ঘটেছে,‘আমাদের জিততে হবে, আমাদের চেষ্টা করতে হবে এবং অন্তত এক গোলে জিততে হবে। সুতরাং আমাদের আক্রমণাত্মক খেলতে হবে।’ এবারের দলের এগার ফুটবলার চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন। স্পেন সে ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল। ১৯৫০ বিশ্বকাপেও প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় ছিল ২-০ তে। দেল বস্ক হয়তো তার পরিকল্পনা সেভাবে সাজাবেন ম্যাচে জয়ের জন্য। দলে দুই তিনটি পরিবর্তনও আনবেন তিনি। তাতে হয়তো দৃষ্টিনন্দন আর জয়সূচক ফুটবলই দেখতে পাবেন সমর্থকরা।
আজকের খেলা
অস্ট্রেলিয়া-নেদারল্যান্ডস
রাত ১০টা
স্পেন-চিলি রাত ১টা
ক্যামেরুন-ক্রোয়েশিয়া রাত ৪টা
