জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিন্ন আচরণ বিধি করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সব নির্বাচনে একই ধরনের বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। তবে আচরণ বিধিমালায় বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আনবে না ইসি। আচরণবিধিতে মাইক ব্যবহারের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা, প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয় স্পষ্টকরণ এবং প্রার্থীরা ভোটার স্লিপ দিতে পারবেন এমন বিধান সংযুক্ত করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, সব ধরনের নির্বাচনের একই ধরনের আচরণবিধি প্রণয়নের চিন্তা আছে। ইতিমধ্যে কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন আচরণবিধি রয়েছে। একেক নির্বাচনে একেক ধরনের বিধিমালা থাকায় ওই বিধির প্রয়োগ নিয়ে প্রার্থী, ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সমতা আনা হলে ওই সমস্যা থাকবে না। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রচারণা চালানোর বিধানে কিছুটা পরিবর্তন আসবে।
অভিন্ন আচরণ বিধিতে যা থাকছে
ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণার সময় বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
অভিন্ন আচরণবিধিতে পদে থেকে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন প্রার্থীরা কি কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা স্পষ্ট করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা স্ব স্ব পদে থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনকালীন তারা কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বা পারবেন না তা স্ব স্ব আচরণবিধিতে নির্ধারিত করা নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসাবে পদে থেকে নির্বাচন করার বিষয়ে কিছু বিধি-নিষেধ আছে। এছাড়াও সংশোধিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ২২ (ক) ধারায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরই উপজেলা অফিস ও যানবাহন, উপজেলা পরিষদের আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এবং এনজিওর কোনো কার্যক্রম বা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ওপর বিধি-নিষেধ রয়েছে। কিন্তু পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিষয়ে এ ধরনের কোনো বিধি-নিষেধ নেই। নির্বাচনকালীন তারা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের অফিস এবং যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে আইনে কিছু উল্লেখ নেই। এবার তা স্পষ্ট হচ্ছে।
অভিন্ন আচরণবিধি মালায় নির্বাচনে ভোটার স্লিপ দেয়ার বিধান সংযুক্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ সংশোধনীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় ভোটার স্লিপ বিতরণের সুযোগ দেয়া হয়। ভোটার স্লিপে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, নিজ ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক, ভোটারের নাম, পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম, ঠিকানা, ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্রের নাম উল্লেখের সুযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় ভোটার স্লিপ দেয়ার বিষয়ে কোনো বিধান উল্লেখ নেই। আবার সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় মেয়র প্রার্থীদের ভোটার স্লিপ দেয়ার ওপর বিধি-নিষেধ রয়েছে। তবে কাউন্সিলরদের স্লিপ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় এসংক্রান্ত কোনো বিধি নেই।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর বিধিমালায় একই বিধান রাখতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। তবে সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার মধ্যে সমন্বয় করা একটু কঠিন কাজ। সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, হুইপ ও পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রচারণায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ সুযোগ দেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা কমিশন থেকে পাওয়া যায়নি। দ্রুত এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে।
