বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার বিধান অবৈধ নয়

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:০৭
এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারা অবৈধ বা অসাংবিধানিক নয়। বিশ্বের বহু দেশেই এ বিধান রয়েছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই জন প্রেসিডেন্টও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আরপিও’র ১৯ ধারা অবৈধ ঘোষণা করা হলে শূন্যতা তৈরি হবে এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৪ সংসদ সদস্যও আইনের চোখে বৈধ বলে বিবেচিত হবেন না। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে আরপিও’র ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত রিট মামলার রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে অংশ নিয়ে এটর্নি জেনারেল এ মত দেন। শুনানিতে রিট আবেদন দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ১৫৪ জন সংসদ সদস্যের পদ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে অথচ তাদের বিবাদী করা হয়নি। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এটর্নি জেনারেল ১৫৪ জনের পদ তো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। তখন এটর্নি জেনারেল বলেন, আলটিমেটলি ১৯ ধারা অবৈধ ঘোষণা করা হলে ১৫৪ জনতো আইনের চোখে বৈধ হবেন না। এটা জনস্বার্থে মামলা হতে পারে না। অসত্ উদ্দেশ্যে এ রিট দায়ের করা হয়েছে। এটর্নি জেনারেল ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পূর্বে এবং ভোটের দিন তখনকার বিরোধী দলের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রোকনউদ্দিন মাহমুদ যথার্থই বলেছেন যে ওইসময় যদি নির্বাচন না হতো তাহলে অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করে নিতো। এটর্নি জেনারেল বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা কোনভাবেই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। কেউ প্রার্থী হতে না চাইলে কাউকে তো জোর করে প্রার্থী বানানো যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে এটর্নি জেনারেল বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের পর ৮৮ সালে আবার নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচন হয়েছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণেই দ্রুত আরেকটি নির্বাচন হয়েছিলো। আদালত কিন্তু নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হয়নি। যে কারণে দ্রুত আরেকটি নির্বাচন হয়। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবৈধ বলা যাবে না। এটর্নি জেনারেল ছাড়াও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মুরাদ রেজা শুনানি করেন। এসময় রিটকারীর কৌঁসুলি ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম উপস্থিত ছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা সংক্রান্ত আরপিও’র ১৯ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। এই রুল শুনানির জন্য কয়েকজন অ্যামিকাসকিউরি নিয়োগ দেয় আদালত। ইতিমধ্যে সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে আদালতে তাদের মত ব্যক্ত করেছেন।