পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চীনা কোম্পানি মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। ১২ হাজার কোটি টাকায় চার বছরের মধ্যে এই সেতু নির্মাণ করা হবে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বহু প্রতিক্ষিত এই সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গতকাল চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি সইয়ের বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে এ চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করলাম। খুব শিগগিরই স্বপ্নের পদ্মা সেতু দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখা যাবে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনলাইন বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ টোয়োন্টিফোর ডটকম জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম এবং চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির চেয়ারম্যান লিউ জিমিং নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি সই উপলক্ষে রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ১২ হাজার ১৩২ কোটি টাকায় পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে চীনের এই কোম্পানিকে গত ২ জুন কার্যাদেশ দিয়েছিল সরকার।
চীনের রেল মন্ত্রণালয়ের অধীন কোম্পানি চায়না মেজর ব্রিজের বার্ষিক আয় ২০০ কোটি ডলার, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ৭৫ হাজার। পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও দর প্রস্তাব জমা দিয়েছিল একমাত্র চীনের কোম্পানিটি। গত ২৬ জুন চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বানের পর মূল সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। চায়না মেজর ব্রিজ ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ কম দর প্রস্তাব করে।
২০১১ সালে পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ১৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বর্তমান অঙ্ক তার চেয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। গত ২২ মে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে চীনা কোম্পানির দরপ্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ১৯ মে এক অনুষ্ঠানে মূল পদ্মা সেতু নির্মাণে চায়না মেজর ব্রিজকে নির্বাচিত করার কথা জানিয়েছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণে ২০১১ সালে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হলেও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি ঝুলে যায়। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে ২০১২ জানুয়ারিতে দেশের সবচেয়ে বড় এ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নে বিশ্ব ব্যাংককে ‘না’ বলে দেয় সরকার। সে সময় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯১ কোটি ডলার। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়। জমি অধিগ্রহণ করে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
