কলকাতা যেতে পারে তদন্ত কমিটি

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:০৮
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় গঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ভারতে গ্রেফতার হওয়া নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাদ করবে। কমিটির ধার্য সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার আগে নূর হোসেনকে দেশে আনা সম্ভব না হলে কলকাতায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার চিন্তা রয়েছে কমিটির। কমিটি প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাজাহান আলী মোল্লা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ৯ জুলাই সাত খুনের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ রয়েছে হাইকোর্টের। ভারতে গিয়ে নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শাজাহান বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে শিগগির আলোচনা করা হবে। প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের একটি দল শনিবার রাতে সেখানকার নেতাজী সুভাস চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বাগুইহাটির একটি বাড়ি থেকে দুজন সহযোগীসহ নূর হোসেনকে গ্রেফতার করে। বায়দুর রহমান ও সুমন খান নামের ঐ দুজনকে রোববার নূর হোসেনের সঙ্গে আদালতে হাজির করা হলে তাদের আট দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ঘটনায় র্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৭ মে তদন্ত কমিটি করে সরকার। এই কমিটি গণ তদন্তের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সদস্য বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করবে। অপহূত ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল কি না- এই কমিটিকে তাও খতিয়ে দেখতে বলেছে আদালত। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহূত হওয়ার তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে। অপহরণের পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিলেও অপহূতদের লাশ উদ্ধারের পর কলকাতায় পালিয়ে যান নূর হোসেন। এরই মধ্যে নূর হোসেনকে ধরতে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ পুলিশ। শনিবার গ্রেফতারের পর গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে চিঠি পাঠায়। এতে বাংলাদেশ-ভারত বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তির মাধ্যমে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়। ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছি:পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এদিকে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনের গ্রেফতার ও তাকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। বাংলাদেশ সফরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়া কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নূর হোসেনের বিষয়ে জানার জন্য ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক জবাবের পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবো। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর নূর হোসেনের আটকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকি কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছে। কারণ গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। ভারতের জবাবের পর এই চুক্তির আওতায় বা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় নূর হোসেনকে দেশে আনা হবে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বাগুইহাটির একটি বহুতল ভবন থেকে দুই সহযোগীসহ নূর হোসেনকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিনজনকে আট দিনের রিমান্ডে পাঠায় উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি আদালত।