ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশি কাঁথা ও সিলেটের শীতল পাটির আদি এবং মূল ধারণা বাংলাদেশের। এ দেশেই এই তিন পণ্য প্রথম উত্পাদিত হয়েছে। অথচ দেশে ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পণ্য সংরক্ষণে কোন আইন না থাকায় এসব পণ্যের মালিকানা চলে গেছে ভারতের হাতে। এই তালিকায় দিনাজপুরের ফজলি আমও রয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্যের স্বকীয়তা রক্ষায় আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক আইন (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেটর বা জিআই অ্যাক্ট) বাস্তবায়নের স্বার্থে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিওটিও) থেকে নিবন্ধন নেয়া জরুরি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংলাপে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য সুরক্ষার গুরুত্ব :প্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক ওই সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ।
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে নিজস্ব পণ্যের মালিকানা সুরক্ষায় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) আইন পাস করা হয়েছে। তবে এতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। এছাড়া এ সংক্রান্ত বিধিমালার অভাবে এর কার্যত কোন ব্যবহার নেই। এ অবস্থায় দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজস্ব মালিকানা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ জন্য প্রয়োজনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ( ডব্লিওটিও) দ্বারস্থ হওয়ারও কথা বলেছেন তারা।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মালিকানা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হচ্ছে একটি বিশেষ প্রতীক বা চিহ্ন, যার দ্বারা কোন পণ্য বা সেবার উত্পত্তিস্থল, গুণাগুণ, সুনাম ও মালিকানার পরিচয় বহন করে। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, হারিয়ে যাওয়া বিশ্ব বিখ্যাত মসলিন জাতীয় পণ্য হচ্ছে জামদানি। ব্র্যান্ড নাম হিসেবে জামদানি ষোড়শ শতাব্দী বা তারও আগের পণ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, জামদানি বলতে হাতে তৈরি ঢাকার বিশেষ এই পণ্যকেই প্রতিনিধিত্ব করে। যাতে ভৌগোলিক নির্দেশক হিসাবে ঢাকার নাম চলে আসে। ঢাকার জামদানির সুতা এবং তৈরি করা জামদানি অন্যান্য দেশের জামদানি থেকে আলাদা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ইফতেখার ইকবাল গবেষণা পরিচালনা করেন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান , এডভোকেট হামিদা হোসেন, বিবি রাসেল প্রমুখ এই গবেষণায় সহায়তা করেন।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জামদানির দ্রুত নিবন্ধন প্রয়োজন। এই সংক্রান্ত ভারতের আইনের ওপর একটি আইনি পদক্ষেপ এবং জিআই প্রসঙ্গে জাতীয় উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যাতে প্রকৃত উত্পাদক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান।
ড. হামিদা হোসেন বলেন, জামদানি এদেশের নিজস্ব সম্পদ । এর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খুশী কবির বলেন, জামদানির পর সিলেটের শীতল পাটিকে নিজেদের দাবি করেছে ভারত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক বলেন, বাংলাদেশি পণ্যকে ভারতের মালিকানা নিবন্ধনের বিরুদ্ধে দিল্লী মিশনের মাধ্যমে সেদেশের সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিধিমালা হলে সব মিশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।
