ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে নিষিদ্ধ যুক্তরাজ্যে

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৪, ২২:১৪
ফোর্সড ম্যারেজ বা জোরপূর্বক বিয়ে দেয়াকে ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স) হিসাবে গণ্য করে আইন প্রণয়ন করেছে ব্রিটেন। তবে এ আইনের কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য অপব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে, বিভিন্ন কমিউনিটির মাঝে বিদ্যমান বিবাহ রীতির জন্য এ আইন হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। আবার অনেকে জবরদস্তিমূলক বিবাহ বন্ধে এ আইন একটি দুর্বল এবং ক্রটিপূর্ণ পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন। গত সোমবার পাস হওয়া এ আইনে কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শুধু ব্রিটেনে নয়; অন্য কোনো দেশেও যদি কোনো ব্রিটিশ নাগরিক নিজের অমতে বিয়েতে বাধ্য হন- সেক্ষেত্রেও এই আইন কার্যকর হবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি এবং শ্যাডো এডুকেশন সেক্রেটারি রুশনারা আলী ইত্তেফাককে বলেন, জবরদস্তিমূলক বিয়ে হল মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন। এ ধরনের বিয়ে বন্ধে আইনের শক্তিশালীকরণের চেষ্টাকে তিনি স্বাগত জানালেও নতুন আইনের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধে এবং ভুক্তভোগী মানুষের সহায়তায় সরকারের উচিত বাস্তবভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা। মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল পলিসির শিক্ষক সামসুল আলম আইনটির অপপ্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে ইত্তেফাককে বলেন, ২০০৭ সালে ফোর্সড ম্যারেজের কথা বলে বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরে উন্নীত করা হয়। কিন্তু এর ফলে ফোর্সড ম্যারেজ ঠেকানো গেছে এমন উদাহরণ একটিও নেই। মূলত অভিবাসন ঠেকানোর জন্যই সরকার এমনটি করেছিলো বলে তিনি মন্তব্য করেন। নতুন এই আইনটিও অভিবাসন ঠেকাতে ব্যবহূত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সন্তানই তার পিতা-মাতাকে জেলে ঢুকিয়ে নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতার চর্চা করতে চাইবে না। টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুতফুর রহমান এই আইনের প্রতি সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে বিদ্যমান বিবাহ রীতিকে বিবেচনায় নিয়ে কোনটি ফোর্সড ম্যারেজ এবং কোনটি নয়- তা নির্ধারণ করতে হবে। বিবিসি’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ফোর্সড ম্যারেজের শিকার মানুষের ৪৩ শতাংশ পাকিস্তানি, ১১ শতাংশ ভারতীয় এবং ১০ শতাংশ বাঙালি। গত বছর সরকারের ফোর্সড ম্যারেজ ইউনিট সর্বমোট ১ হাজার ৩০২টি জোরপূর্বক বিবাহের ঘটনা মোকাবেলা করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোরপূর্বক বিবাহের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের ৮২ শতাংশ নারী, ১৮ শতাংশ পুরুষ এবং ১৫ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ১৫ বছরের কম। ৭৪টি ভিন্ন দেশে এসব ফোর্সড ম্যারেজের ঘটনা ঘটেছে।