মংলা বন্দরে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ষ্টিভিডরস মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২০:৫০
মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের বেসক্রিকে অবস্থানরত হংকংয়ের পতাকাবাহী একটি জাহাজের ক্রেন জাম্পিং করে দু’শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিক সরবরাহকারী ষ্টিভিডরসের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ‘মাস্টার ষ্টিভিডরস এসোসিয়েশন ও অন্যান্য সংগঠন নেতৃবৃন্দ। নিহত শ্রমিক পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকলেও, পুলিশ অতি উত্সাহের বশে বাদী হয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ষ্টিভিডর মেসার্স নুরু এন্ড সন্স-এর মালিক এইচ, এম দুলালকে হয়রানির চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলক এ মামলা দায়েরের প্রতিবাদে মাষ্টার ষ্টিভিডরস এসোসিয়েশন কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ আন্দোলনের প্রয়োজনে বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস কাজসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানান সংগঠনের নেতারা। এ বিষয় বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে নিহতদের পরিবারকে নিয়মানুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ষ্টিভিডরস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো:সাঈদ আহমেদ তুষার। গত বুধবার জাহাজে দুর্ঘটনায় নিহত ফোরম্যান আব্দুল মতিন ও টালি ক্লার্ক জাকির হোসেনের পরিবারকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বাবদ আর্থিক সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া, বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে একজন উপসচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছেন। তদন্ত টিম তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। বন্দরের নিয়ম-নীতি অনুযায়ী শ্রমিক নিহতের বিষয় পুলিশের বাদী হয়ে মামলা করার কোন সুযোগ নেই। পুলিশ বে-আইনিভাবে ষ্টিভিডরসদের নামে মামলা দিয়ে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। মামলার বাদী মংলা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো: তাজউদ্দিন বলেন, জাহাজে শ্রমিক নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি দুর্ঘটনার মামলা করেছি। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন জানান, ষ্টিভিডরসের কর্মে গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং দু’জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাই ষ্টিভিডরস কোম্পানির মালিককে এ ব্যাপারে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।