বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান বীর তিতুমীর নির্মাণ করেছিলেন বাঁশের কেল্লা। ইতিহাসে তা অক্ষয় হয়ে আছে। তবে বাঁশের কেল্লার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশের স্থাপনাও এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। ইট-চুন-সুরকির যুগে বাঁশের জায়গা কই? তারপরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাঁশের মিলনায়তন নির্মাণ করেছে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। ঠাকুরগাঁওয়ে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দে র প্রথম তলার ছাদে তৈরি করা হয়েছে নিদর্শনটি। নাম রাখা হয়েছে চেতনা বিকাশ কেন্দ্র।
দুই হাজার বর্গ ফুটের মিলনায়তনটির চারপাশ বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করে ওপরে দেয়া হয়েছে খড়ের ছাউনি। ভিতরের আসবাবপত্র তৈরি করা হয়েছে বাঁশ ও পাট দিয়ে। মিলনায়তনটি ইএসডিওর সম্মেলন কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই সম্মেলন কক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে সব মাটির তৈরি জিনিসপত্র। ৮০ জন কারিগর ছয় মাস পরিশ্রম করে নির্মাণ করেছেন বাঁশের মিলনায়তনটি। প্রধান নির্বাহী ড. জামান বলেন, ‘গ্রামীণ ঐতিহ্য, বাঁশ ও মৃিশল্পীদের কাজের প্রসার ঘটানোর জন্য বাঁশের মিলনায়তনটি নির্মাণ করেছি। বাঁশ শিল্পীরা আগে বাঁশের বিভিন্ন প্রকার জিনিস তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন; কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশ শিল্পীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই বাঁশের মিলনায়তনটি নির্মাণ করা হয়েছে।’ ‘ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘরটির নকশা নিয়ে গেছে। আশাকরি তারাও এমন ঘর নির্মাণ করবেন। এ ছাড়া কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি ঘরটি দেখে মুগ্ধ হয়ে ঘরটির অংশবিশেষ তৈরির অর্ডার দিয়েছেন কারিগরদের।’ তিনি বলেন, বাঁশ চাষ লাভজনক। বাঁশ যে কোনো পতিত জমিতে চাষ করা যায়, বিশেষ করে গোরস্থানে। কারণ বাঁশের শিকড় খুবই চিকন। গোরস্থানে যেহেতু কোনো ফসল চাষ করা যায় না বা হয় না, সেহেতু বাঁশ চাষ করলে যেমন বাঁশ শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে, ঠিক তেমনি জমির সঠিক ব্যবহারও করা হবে। তারই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের সর্ববৃহত্ খোলামেলা গোরস্থানে বাঁশ চাষ শুরু করতে যাচ্ছে ইএসডিও।
