বিনিয়োগ বাড়াতে পৃথক কর্তৃপক্ষ ও সেল গঠিত হচ্ছে সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২২:১৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ এর মাধ্যমে সেবা দেয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল সেল ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ স্থাপন করা হচ্ছে। বিগত ৫ বছরে ৮৬২টি নিবন্ধনপত্র জারি করা হয়েছে, যার বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। কৃষিভিত্তিক শিল্প, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিজ, ফুড এন্ড এলাইড, লেদার প্রডাক্টস খাতে এই অর্থ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সুজনের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩০৬টি শিল্প প্রকল্পের অনুকূলে নিবন্ধনপত্র জারি করা হয়, যার মোট বিনিয়োগ প্রায় ৬ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। একই সময় যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পের অনুকূলে নিবন্ধনপত্র জারি করা হয় ৫৫৬টি, যার মোট বিনিয়োগ ৮২ হাজার কোটি টাকা। শেখ হাসিনা জানান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, ইতালি, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ এ সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। বিনিয়োগ সহজতর করার লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা দেয়া হচ্ছে। পানি সরবরাহ, বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ এবং পরিবেশ ছাড়পত্রসহ আনুসঙ্গিক সুবিধাদি সহজে এবং দ্রুততম সময়ে প্রদান করা হচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসমূহ অনলাইন পদ্ধতিতে দেয়া হয়। এর ফলে একজন বিনিয়োগকারী অতিদ্রুত নিবন্ধন পেয়ে থাকেন। বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা হালনাগাদ তথ্য ও সেবাসমূহ জানতে পারছেন। বাংলাদেশে ২৩৩টি বিদেশি এনজিও কাজ করছে জাতীয় পার্টির (জাপা) এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ২৩৩টি বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ৭০টি, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ৩৬টি, জাপানভিত্তিক ১৯টি, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ১০টি, বেলজিয়ামভিত্তিক ৩টি, কানাডাভিত্তিক ৮টি, ডেনমার্কভিত্তিক ৫টি, ফিনল্যান্ডভিত্তিক ২টি, ফ্রান্সভিত্তিক ৮টি, জার্মানভিত্তিক ৬টি, হংকংভিত্তিক ২টি, ভারতভিত্তিক ২টি, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক ১টি, ইতালিভিত্তিক ৩টি, কুয়েতভিত্তিক ২টি, নেদারল্যান্ডভিত্তিক ৯টি, নিউজিল্যান্ডভিত্তিক ২টি, নরওয়েভিত্তিক ৪টি, কাতারভিত্তিক ১টি, সৌদি আরবভিত্তিক ৬টি, দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক ১১টি, স্পেনভিত্তিক ৪টি, সুদানভিত্তিক ১টি, সুইডেনভিত্তিক ৬টি, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ৯টি, থাইল্যান্ডভিত্তিক ১টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ২টি এনজিও রয়েছে। এসব এনজিওতে ৩৪২ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৫ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, কোনো এনজিও বিদেশি নাগরিক নিয়োগ করতে চাইলে সংস্থার অর্গানোগ্রাম অথবা এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অনুমোদিত প্রকল্পে বিদেশি বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের সংস্থান থাকতে হয়। নিয়োগের শর্তানুযায়ী যথাযথভাবে বিদেশি নিয়োগ করা হয় এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিয়ে তারা এদেশে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সেক্ষেত্রে তারা কোনো বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিক সংস্থার প্রধান কার্যালয় যে দেশে অবস্থিত সেই দেশ থেকে বেতন-ভাতাদি গ্রহণ করেন। প্রকল্পে অর্থের সংস্থান থাকলে বাংলাদেশের চলমান প্রকল্প থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় বেতন-ভাতাদি গ্রহণ করেন। বিদেশি এনজিওগুলো ক্ষেত্রবিশেষে সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর পদে এবং প্রকল্প কার্যক্রম কেবল বিশেষজ্ঞদের বিদেশ থেকে নিয়োগ করে থাকে বলেও জানান তিনি। জুলাই থেকে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিগত ৫ বছরে এবং বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর হতে অদ্যাবধি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাগণের ভাতার পরিমাণ ৯শ’ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকায় এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা এক লাখ থেকে বৃদ্ধি করে দেড় লাখ জনে উন্নীত করেছে। ভাতার মাসিক পরিমাণ ২ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে মাসিক ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে এবং জুলাই ২০১৪ থেকে ৫ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হবে।