সীতাকুণ্ডে দুই জাহাজভাঙ্গা কারখানা উচ্ছেদ

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২২:১৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়িতে বন বিভাগের গাছ কেটে অবৈধভাবে নির্মাণ করা দু’টি জাহাজভাঙ্গা কারখানা চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। কারখানা দু’টি হলো এসকে শিপইয়ার্ড ও এসকে স্টিল মিলস। এসময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার পূর্ণ গুদাম, একটি দোতলা ভবন ও একটি একতলা ভবন ভেঙে দেয়া হয়। এছাড়া সমুদ্র থেকে জাহাজ তীরে টেনে তোলার কাজে ব্যবহূত পাঁচটি উইঞ্চ মেশিন জব্দ করা হয়। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শিপইয়ার্ড দু’টি আংশিক উচ্ছেদ করা হয়। তবে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ অসমাপ্ত থাকায় আদালতের নির্দেশে গতকাল আবার চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। জানা গেছে, ২০০৯ সালে এ ইয়ার্ড দু’টি নির্মাণের সময় উপকূলীয় বন বিভাগের লাগানো ১৫ হাজার গাছ অনুমতি ছাড়াই কাটা হয়। উদ্ধার হওয়া জমিতে পুনরায় গাছ লাগানো হবে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে গতকাল বুধবার পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেন। এসময় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরএসএম মুনিরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারি বন সংরক্ষক মো. হোসাইনসহ ফায়ার সার্ভিস, এলজিইডি ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরএসএম মুনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গত বছরের ছয় অক্টোবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বনভূমি ধ্বংস করে নির্মিত জাহাজভাঙ্গা কারখানা দু’টি উচ্ছেদ করে নতুনভাবে বনায়নের নির্দেশ দেন। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আরেক আদেশে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কারখানা দু’টির স্থাপনা ও অন্যান্য সামগ্রী উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এ অনুযায়ী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে প্রশাসন। গত ২৬ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ অপর এক আদেশে অবশিষ্ট স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে উপকূলীয় বনবিভাগকে আবারো বনায়নের নির্দেশ দেয়া হয়।