সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট পরে ২০১০ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন দিয়াগো ফোরলান। এবার ডেথ গ্রুপে পড়া দলকে পারেননি প্রথম ম্যাচে হার থেকে বাঁচাতে। সতীর্থরাও কোস্টারিকার কাছে গোল হজমের বেদনার দৃশ্য অবলোকন করেছে অবলিলায়। এদিনসন কাভানি প্রথমে গোল করে আশার আলো জ্বালালেও পরে তা ম্লান হয়ে গেছে ১-৩ ব্যবধানে। ওয়েন রুনি, জেরার্ড, স্টারলিংরা পারেননি দলকে রক্ষা করতে। ইতালির কাছে পরাস্ত হয়েছেন ১-২ গোলে। সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হারের ক্ষত নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে সাও পাওলাতে। দুইজনেরই বাঁচা-মরার লড়াই। কে পারবে আজ হার এড়াতে?
গ্রুপ ডি’কে ‘ডেথ গ্রুপ হিসেবে মূল্যায়ন যথার্থই হয়েছে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, একবারের চ্যাম্পিয়ন ফুটবলের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোস্টারিকা রয়েছে গ্রুপে। ইতালি প্রথম ম্যাচে আখের গুছিয়ে নিয়েছে। পথ হারিয়েছে অচেনা উরুগুয়ে। ইংল্যান্ডও একই পথে। বাজিমাত করেছে আলোচনায় না থাকা কোস্টারিকা। চার দলের দুইজন গ্রুপ থেকে বাদ পড়বে। কোন দুই দল থাকবে সে অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায়? তালিকার কথা না হয় পরেই বলা যাক। আজকের ম্যাচে অস্তিত্ব রক্ষা হবে কার- সেটা নিয়ে আলোচনা অগ্রাধিকার পাবে।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল স্বাগতিক উরুগুয়ে। ১৯৫০ সালে মারাকানায় শৈল্পিক ফুটবলের দেশ স্বাগতিক ব্রাজিলকে হতাশায় ডুবিয়ে বীরদর্প দেখিয়েছিল ফোরলানের দেশ। প্রথম ম্যাচেই এ দম্ভ এবার তাদের চূর্ণ হয়ে গেছে। ১৯৬৬ সালে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। তবে তাদের গতির ফুটবল এবার সেভাবে দেখা যায়নি। মজার ব্যাপার ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ের মধ্যে কিছুটা মিল আছে। দুই দলই ফাইনালে উঠে শিরোপা জয় করেছে। এর বাইরে একবারও রানার্সআপ হয়নি। এবার খেলার যে হাল তাতে দুই দল কতদূর যেতে পারবে সেটাই প্রশ্ন।
আগের পরিসংখ্যানে দুই দল সমানে সমান। ১০ ম্যাচে তিনটি করে জয়, বাকি চারটি অমীমাংসিত। সর্বশেষ জয় ইংল্যান্ডের পক্ষে ২০০৬ সালে ২-১ এ আন্তর্জাতিক ম্যাচে। যদিও উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কখনো জিততে পারেনি রুনির দল। দুই ম্যাচের একটিতে হার ২-৪ এ, অন্যটি ছিল গোলশূন্য।
আজকের ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেন প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা। এমন আভাসই দিয়েছেন দলের কোচ অস্কার তাবারেজ। প্রথম ম্যাচে ছিলেন না ফরোয়ার্ড লুই সুয়ারেজ। উরুগুয়েনদের জন্য আশার দিক হচ্ছে, ইনজুরি কাটিয়ে আজ ম্যাচে ফিরছেন তিনি। জানান দিয়েছেন, চেনা বন্ধুদের সঙ্গে জয়সূচক খেলার। আগের ম্যাচে এক গোল করা কাভানি সুযোগের অপেক্ষায় গোল বাড়ানোর। বর্তমান গোল্ডেন বলের মালিক ফোরলান তো মুখিয়ে আছেন নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য। যদিও বয়সের ভার গ্রাস করেছে তাকে। বসে নেই ওয়েইন রুনিরা।
