কুমিল্লায় মাশরুম চাষ করে নারীদের বাড়তি আয়

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২১:১৫
মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন কুমিল্লার নারীরা। গত ৫ বছরে কুমিল্লা মাশরুম সমপ্রসারণ ও উন্নয়ন উপকেন্দ্রে গিয়ে এমনই তথ্য জানা গেছে। এ জেলার প্রায় ১০ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যক্তি উদ্যোক্তা ছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন সহস্রাধিক ব্যক্তি, যার অধিকাংশই নারী। তবে কম পুঁজিতে অধিক আয় এবং পুষ্টি ও ওষুধি গুণসম্পন্ন সবজি হিসেবে মাশরুম চাষের বিষয়ে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণার দাবি জানিয়েছেন মাশরুম সমপ্রসারণ ও উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা। জানা গেছে, জেলার বুড়িচং উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায় মাশরুম সমপ্রসারণ ও উন্নয়ন উপকেন্দ্র থেকে গত ৫ বছরে প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক ব্যক্তিকে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ‘রোগ মুক্ত দেহ চান : নিয়মিত মাশরুম খান’, ‘মাশরুম চাষে অর্থ আসে : সুখ সমৃদ্ধিতে গৃহ হাসে’- এ শ্লোগানকে ধারণ করে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই জীবিকার তাগিদে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ মাশরুম চাষ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা এলাকায় এ চাষ করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ৩শ’ টাকার মাশরুম বীজ ক্রয় করে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। মাশরুম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির যোগান দিচ্ছে। বিশেষ করে নারীরা মাশরুম চাষ করে পরিবারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি হিসেবে অনন্য ভূমিকা রাখছেন। শুধুমাত্র মাশরুম চাষের মাধ্যমে প্রশিক্ষিতদের মধ্যে অধিকাংশ নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। সরেজমিন দেখা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার খাড়াতাইয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাহেরা বেগম মাশরুম চাষ করছেন। সাহেরা বেগম জানান, মাচা তৈরি ও বীজ ক্রয়ে তার ৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন তিনি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি মাশরুম বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি মাশরুম পাইকারি মূল্য ১৩০ টাকা। এ হিসাবে মাস শেষে তার গড়ে আয় হয় কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা। একই উপজেলার গাজীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নূর মিয়ার স্ত্রী নার্গিস বেগম বাড়ির পরিত্যক্ত ছোট্ট পরিসরের একটি ঘরে মাশরুম চাষ করছেন। নার্গিস বেগম জানান, মাশরুম চাষে সার ও ওষুধের প্রয়োজন হয় না। সকাল বিকাল পানি দিয়ে ও সামান্য পরিচর্যা করলেই হয়। তিনি জানান, নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি মাশরুম বিক্রি করে তার হাতে নগদ টাকা আসে। মাশরুমের উপকারিতা নিয়ে বেশি বেশি প্রচার হলে মানুষ মাশরুম খেয়ে উপকৃত হতো। প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষের মাধ্যমে ঘরে বসে আমার মতো অনেক নারী স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা মাশরুম সমপ্রসারণ ও উন্নয়ন উপকেন্দ্রের উদ্যানতত্ত্ববিদ ড. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মাশরুম একটি পুষ্টি ও ওষুধি গুণসম্পন্ন সবজি। মাশরুম ডায়াবেটিস, পেটের পীড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাশরুম চাষ করে লোকসানের কোনও সম্ভাবনা নেই, কারণ এ চাষে বেশি পুঁজির প্রয়োজন হয় না। উত্পাদিত মাশরুম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা না গেলেও আমরা তা ক্রয় করে থাকি। অল্প খরচে বেশি আয় করতে পারায় বিশেষ করে নারীরা মাশরুম চাষে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন।