ব্রিটেনের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী (এথনিক মাইনোরিটি) শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের তুলনায় পড়াশুনায় ভাল করলেও কর্মক্ষেত্রে বা পেশা জীবনে একই রকম অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। উচ্চতর পদে সংখ্যালঘু শ্রেণীর চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা বিদ্যমান। বিশেষ করে দেশটির মুসলিম নারীরা শিক্ষিত হয়েও ধর্মীয় পোশাক পরিধানের কারণে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। ‘এথনিক মাইনোরিটি: বেটার কোয়ালিফাইড উইথ ফিউয়ার অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে। গত শুক্রবার এ প্রতিবেদনটি হাউজ অব লর্ডসের এক সেমিনারে উপস্থাপন করা হয়। ব্রিটেনের অ-ইউরোপীয় অভিবাসী এবং তাদের প্রজন্মই মূলত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের প্রফেসার জেমস নাজরু, এন্থোনি হিথ এবং ইয়াওজান লি’র নেতৃত্বে ‘দি সেন্টার অন ডায়নামিক্স অব এথনিসিটি’ (সিওডিই) এই গবেষণা চালায়। গবেষণায় দেখা যায়, সেক্লোরি ধাপের শিক্ষায় বাংলাদেশি, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, আফ্রিকান এবং আইরিশ শিক্ষার্থীরা জিসিএসই’তে ভাল ফলাফল করে তাদের শ্বেতাঙ্গ সহপাঠীদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের চাইতে বেশি সংখ্যক বিষয়ে এ স্টার পাচ্ছে। শুধু তাই নয়; কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য এথনিক কমিউনিটির সন্তানদের ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করে ডিগ্রি অর্জনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিগ্রী অর্জনের হার বেড়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন অগ্রগতি সত্ত্বেও এসব কমিউনিটির লোকেরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। এ কারণে সামাজিক গতিশীলতার (সোশ্যাল মবিলিটি) ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি থেমে আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণ ব্রিটিশ মুসলিম নারীদের প্রতি চাকরিদাতাদের বৈষম্যমূলক আচরণ তাদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক পোশাক- বোরকা, হিজাব কিংবা নিকাব পরিধান করা নারীরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের ড. ব্রাউন বলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক গতিশীলতা অর্জনের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং সরকারি খাতে কাজে নিয়োগ পাওয়াকে অন্যতম উপায় হিসাবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু গত ২০ বছরের চিত্র তা ভুল প্রমাণ করেছে।
