সাগরে অপহূত ১১ জেলে পাঁচ দিনেও উদ্ধার হয়নি

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২১:১৭
বঙ্গোপসাগরের লালদিয়া ও পক্ষীদিয়ার চর সংলগ্ন এলাকা থেকে জলদস্যুদের হাতে অপহূত তালতলীর ১১ জেলের স্বজনদের নিকট মোবাইল ফোনে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলে প্রতি ২ লাখ করে মোট ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। অপহরণের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও তাদের উদ্ধার করা যায়নি। জলদস্যুদের হাত থেকে ফিরে আসা ট্রলারের অন্য জেলে ও অপহরণকৃত জেলেদের অভিভাবকরা জানান, তালতলীর সকিনা থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর লাল দিয়া ও পক্ষীদিয়ার চর সংলগ্ন এলাকা থেকে গত ১৫ মে গভীর রাতে মাছ ধরার সময় জেলেদের ২০টি ট্রলারে হামলা চালায় এবং ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ জাল লুট ও মুক্তিপণের দাবিতে তালতলীর নলবুনিয়া, গাববাড়িয়া অংকুজান গ্রামের ১১ জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনের শীর্ষ জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। অপহরণের ৪ দিন পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে জলদস্যুরা টাকা আদায়ের জন্য অপহরণকৃতদের শারীরিক নির্যাতন করে মোবাইলের মাধ্যমে তাদের কান্নাকাটি অভিভাবকদের শোনান। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। অপহূতদের স্বজনরা জানান, এতো টাকা দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এদিকে একই পরিবারের পিতা ফজলু মাঝি ও পুত্র ছগির অপহরণ হওয়ায় তাদের পরিবারে চলছে কান্নার রোল। অন্যের ট্রলারে কাজ করে চলতো এদের পরিবার। এখন অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। এদের ট্রলার মালিক জয়ালভাংগার দুলাল বলেন, এতো টাকা দেয়ার সমর্থ তাদের নেই। কোন রকম ধার-দেনা করে ট্রলার নামিয়েছিলাম। তালতলীর সখিনা কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, জলদস্যুদের অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারায় অপহূতদের উদ্ধার করা যাচ্ছে না।