দিনাজপুরে আম-লিচুর বাজারে ক্রেতা সংকট

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২১:১৯
মধু মাস জ্যৈষ্ঠ মাস শেষ হলো। বর্ষা শুরু। দিনাজপুরে মৌসুমী আম ও লিচুর এখন চতুর্দিকে সমারোহ। কিন্তু কেন যেন সবকিছুতেই ভাটা। কি ক্রেতা কি বিক্রেতা। দিনাজপুর জেলায় প্রতিদিন চলছে ভেজাল বিরোধী ও ফরমালিন মুক্ত অভিযান। প্রতিদিনই বিপুল হারে ফরমালিন মেশানো আম ও লিচু ধ্বংস করা হচ্ছে। জরিমানার সম্মুখীন হচ্ছেন খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারেরা। চারিদিকে একটি কথা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা’। গত কয়েকদিন ধরেই দিনাজপুরে আম ও লিচুর প্রধান বাজার কালিতলা পৌর মার্কেট ও বাহাদুর বাজার ফলের মার্কেটে বিরাজ করছে ক্রেতা শূন্য অবস্থা। আতঙ্কগ্রস্ত বিক্রেতারা বলছেন, ঢাকার ক্রেতারা ভয়ে আম লিচু কিনছেন না। কারণ যে গাড়িগুলোতে আম লিচু রাজধানীসহ বাইরে পাঠানো হচ্ছে প্রতিটি গাড়িই তল্লাশী চৌকির আওতায় আনা হচ্ছে। একটিতেও যদি ফরমালিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায় তাহলে পুরো গাড়ির ফল ধ্বংস করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পাইকাররা ছাড়াও যারা আত্মীয়-স্বজনকেও লিচু বা আম পাঠাচ্ছেন তাদের ব্যক্তিগত ঝুড়িগুলোও ধ্বংসের আওতায় আসছে। এ কারণেই ব্যক্তিগতভাবে কেউ ঢাকায় বা ঢাকার বাইরেও আম লিচু পাঠাচ্ছে না। এতে করে দিনাজপুরের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে যারা আম লিচুর বাগান কিনে রেখেছেন, তারা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কোটি কোটি টাকার। গতকাল পর্যন্ত অনেক বাগান মালিক ও পাইকারি আড়তদারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার যে ক্ষতি হলো তা দীর্ঘদিনেও পূরণ করা সম্ভব হবে কি না সন্দেহ আছে। শুধু সদর উপজেলায়ই নয়, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জসহ ১৩টি উপজেলাতেই লিচু ও আম বাগানীরা জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত বাগানে দুই একজনের বেশি ক্রেতা আসেননি। গাছে ফল পেকে নিচে পড়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আম লিচু পাঠিয়ে দিলেও তারা তা খাচ্ছে না। যদি এতে ফরমালিন থাকে, তাই। দিনাজপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস সার্ভিসগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরমালিন চেকপোস্ট পার করে কারও চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকায় কোন ফল পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখন কেউ ঢাকাতে ফলও পাঠাচ্ছে না। এতে করে পরিবহন খাত লোকসানের মুখে পড়েছে। পাইকারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দিনাজপুরের বোম্বাই লিচু, বেদানা লিচু ও চায়না থ্রি লিচু এখন অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা নেই বললেই চলে। এদিকে বাগান মালিকরা বা যারা অন্যের কাছ থেকে বাগান কিনে ব্যবসা করছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ফরমালিন কি জিনিস বোঝেন না বা জানেনও না। কোথায় পাওয়া যায় তাও জানেন না। যারা ফল কিনে নিয়ে আড়তে ব্যবসা করছেন তারাই এই ফরমালিন সংগ্রহ করে আম লিচুতে দিচ্ছেন। যেখান থেকে ফরমালিন আনা হচ্ছে সেখানেই অভিযান চালানো হোক। শুধু ব্যবসায়ীদের ও বাগান মালিকদের হয়রানি কেন? দিনাজপুরে আম বাগানের জন্য পরিচিত এলাকা কসবা ও লিচুর সর্বোচ্চ উত্পাদন কেন্দ্র মাশিমপুর পরিদর্শন করে দেখা গেছে অসংখ্য গাছে আম ও লিচু। বাগান মালিকদের এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, ফরমালিন আতঙ্কে ভুগছে ক্রেতারা। তাই ক্রেতা নেই।