৩৪ জনের স্থলে ৩ চিকিত্সক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২১:১৯
চিকিত্সক সংকটে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ওষুধ সংকট, রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ প্রয়োজনীয় ৩৪ জন চিকিত্সকের স্থলে মাত্র ৩ জন চিকিত্সক দিয়ে নামে মাত্র চলছে দৌলতপুর উপজেলার প্রায় ৭ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিত্সা নিতে এসে সঠিক চিকিত্সা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা নিচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাঃ নাজিম উদ্দিন জানান, হাসপাতালের দৈনন্দিন কাজ, মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিমের মাতৃসেবা ও সিজার, ইনডোর, আউটডোরের দিবারাত্রি দায়িত্বপালন মাত্র ৩ জন ডাক্তার দিয়ে অসম্ভব। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) সহ ২০ জন এবং উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৪ জন সহ সর্বমোট ৩৪ জন চিকিত্সকের পদ রয়েছে। বর্তমানে টিএইচএসহ মাত্র ৩ জন চিকিত্সক এখানে কর্মরত আছেন। আর ১৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিত্সক শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে, এ উপজেলার প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ সরকারের চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু জরুরি বিভাগে সামান্য কাটাছেঁড়া রোগীর সেবা দেয়া ছাড়া অন্যান্য চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের ভাগ্য ভাল হলে হয়ত কোন চিকিত্সকের দেখা মিলে। কেননা ডাক্তার সংকটের কারণে বহির্বিভাগে সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১২টার আগে কোন ডাক্তার পাওয়া যায় না। তাছাড়া সামান্য জটিলতা দেখা দিলে চিকিত্সকের অভাবে নার্স ও মেডিকেল এসিস্টেন্টরা রোগীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল বা রাজশাহী মেডিকেলে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি প্রায় একযুগ ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ইসিজি মেশিনটিও ৫/৬ বছর ধরে নষ্ট। সংরক্ষণ ও মেরামতের নামে অর্থ ব্যয় হলেও তা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি যেভাবে এখানে এসেছিল এখনও সেরকম প্যাকেট করা রয়েছে। রোগীদের প্রতিদিন একবেলা মাছ ও একবেলা মাংস দেবার শর্ত থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। গরু বা খাশির মাংসের বদলে ব্রয়লার মুরগির মাংস এবং রুই মাছের বদলে পাঙ্গাস বা সিলভার কার্প মাছ দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা জানায়, আমরা গরীব মানুষ যা দেয়, ইচ্ছা না থাকলেও তাই খাচ্ছি। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারিভাবে হাসপাতালে ৩৬ ধরনের ওষুধের সরবরাহ থাকলেও রোগীদের প্যারাসিটামল, এন্টাসিড ও মেট্রোনিডাজলসহ মাত্র ১০/১২ ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দামি ওষুধগুলো রোগীরা বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আকুল উদ্দীন বলেন, সবেমাত্র আমি এখানে যোগদান করেছি। প্রয়োজনীয় চিকিত্সক দেবার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দৌলতপুর হাসপাতালের অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিত্সক নেই। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে।