পারিবারিক নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সের নারী এর শিকার হচ্ছেন। আর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পরিবারের শিশু ও ছেলেমেয়েদের ওপর পড়ছে। যেসব পরিবারের সন্তানরা এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয় তারা শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতা গড়ে ওঠে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সন্তানরা তাদের মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। ভবিষ্যতে এইসব সন্তান তাদের নিজেদের পরিবারের মধ্যেও অশান্তি সৃষ্টি করে। কিন্তু যদি পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধাবোধ থাকতো তাহলে এইসব পরিবারের সন্তানের মধ্যেও ভালো আচরণ গড়ে উঠতো। তারা পরিবার ও সমাজ সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতো যেটা একটা ভালো ও উন্নত রাষ্ট্রের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করতো। পারিবারিক নির্যাতনের কবল থেকে নারীদের রেহাই দেবার জন্য অবশ্যই আমাদের সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। নারীদের মধ্যে আছে অনন্য প্রতিভা। যেটার স্বাক্ষর এদেশের বহু নারী রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন। তাঁরা নিজেদের মেধা, বুদ্ধি, শিক্ষা, বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার ও দেশের উন্নতিতে অবদান রাখছেন। তাঁদের নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। নারীকে পরিবারের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নারী-পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ভাবতে হবে। আমাদের দেশকে সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে দিতে হলে অবশ্যই পরিবারের শান্তি কাম্য।
মো. আরিফুর রহমান সুমন,
সহকারী ব্যবস্থাপক, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, ঢাকা
