প্রতিবছর দেশে লঞ্চ দুর্ঘটনায় হাজারো প্রাণহানি ঘটে। এটা ভাবিয়ে তুলেছে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চার ছাত্রকে। কিছু একটা করতে হয়। কাজে নেমে পড়লেন হিমু, ইউনুস, মাহাদি এবং সাজিদ। উদ্ভাবন করেছেন নতুন সিস্টেম। নাম দিয়েছেন ‘নৌ পরিবহন অটোমেটিক ওভারলোড প্রতিরোধ’।
এই প্রসঙ্গে কথা হয় তাদের সঙ্গে। উদ্ভাবনী দলের প্রধান হিমু বলেন, এই সিস্টেমের আওতায় লঞ্চে অতিরিক্ত লোক উঠলেই সংকেত দেয়া শুরু করবে। এভাবে দুইবার সংকেত দেবে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী লঞ্চে উঠলে লঞ্চ আর চালু হবে না। ইঞ্জিন স্বয়ক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। অতিরিক্ত যাত্রী নেমে গেলে তবেই ফের চালু হবে।
কেবল হিমুদের প্রকল্প নয়। এরকম আরো অনেক উদ্ভাবন দেখা গেল রাজধানীর আইডিইবি ভবনে। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘স্কিল কম্পিটিশন’ জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রাতিষ্ঠানিক ও আঞ্চলিক পর্বের নির্বাচিত ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এই পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে।
রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মুরাদ, শরিফ, হাসান এবং রেদওয়ান। এই চার ছাত্র উদ্ভাবন করেছেন মোবাইল নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল লকার। এই উদ্ভাবন নিয়ে উদ্ভাবনী দলের মুরাদ বলেন, এটি তালা চাবির বিকল্প একটি লকার। যা খুলতে বা লাগাতে কোন চাবির প্রয়োজন হয় না। একটি পাসওয়ার্ড এবং একটি গোপন মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যেহেতু এটি দুইট গোপন নম্বর দিয়ে আনলক করতে হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির উপস্থিতি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়, তাই এটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করতে সক্ষম।
রেলের দুর্ঘটনা এড়াতে পারবে সাফায়েত, আরজু এবং মিনার উদ্ভাবন। এই তিন ছাত্র পড়ছেন খুলনার সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। এই উদ্ভাবন নিয়ে সাফায়েত বলেন, এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি সেনসর ব্যবহার করেছি। যে সেনসরগুলি একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি ভরের জন্য সক্রিয় হবে। ট্রেন যখন প্রথম সেনসরকে অতিক্রম করবে তখন একটি ট্রিগারিং পালস পাওয়া যাবে। এই সময় জনগণকে সচেতন করার জন্য স্বয়ক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এলার্ম বাজতে থাকবে। ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে ট্রেন আসার বার্তা দেখা যাবে। এছাড়া ট্রেন যখন তৃতীয় সেনসর অতিক্রম করবে তখন রেলগেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। বরিশাল পলিটেকনিক ছাত্রদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের নাম ‘থ্রি স্টেপ সিকিউরিটি এলার্ম সার্কিট’। এই উদ্ভাবন নিয়ে কথা হয় নাঈম, হাসান এবং সেন্টুর সঙ্গে। তারা জানান, আমাদের দেশে যে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অধিক খরচ এবং অধিক শ্রমের প্রয়োজন হয়। তবুও পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া যায় না। তবে আমাদের এই পদ্ধতিতে খুব কম সময়ে ও কম খরচে অধিক লোকের ব্যবহার ছাড়াই তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়া যাবে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেছে খুলনা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানের তিন ছাত্রী প্রকল্পটি দাঁড় করিয়েছেন। এরা হলেন- তানিয়া রহমান, দিল আফরোজ এবং সুরাইয়া শাম্মী। নির্দেশক ছিলেন শিক্ষক রওশন শাদ ফেরদৌসী। এই প্রকল্প নিয়ে তারা বলেন, সুন্দরবনকে সংরক্ষণ জরুরি। বন থেকে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে কাঠ, পশুপাখি চুরি হয়ে যায়। আমরা চুরির পরিমাণ কমানোর জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। আমরা এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি যখন কোন লোক সুন্দরবনে প্রবেশ করবে তখন ফরেস্ট অফিসে সিগন্যাল বাতি জ্বলবে এবং শব্দ হবে। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
একই দিন বিকালে ‘ইনোভেশন: ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন এন্ড এমপ্লয়েবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাজাহান মিয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোলাম মো. জহিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
