ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম গুলিবিদ্ধ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০৬
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এনামুল হক শামীম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডিতে নিজ বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে করে অফিসে যাচ্ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তিনজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এর দু’টি গুলি তার হাতে বিদ্ধ হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রপচারের পর তাকে নেয়া হয়েছে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। সেখানে চিকিত্সকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন। তার অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। শামীমের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের স্থানীয় নেতারা বলছেন, শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের রাজনীতিতে দলীয় কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন শামীমকে গুলি করে থাকতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ হাসপাতালে শামীমকে দেখতে গিয়ে ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন। তবে গুলিবিদ্ধ শামীম বা তার পরিবারের লোকজন হামলার কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি। তারা জানিয়েছেন, শামীমের সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়ীক কোনো দ্বন্দ্ব তাদের জানা নেই। শামীমের স্বজনরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শামীম তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর মোটরসাইকেল থেকে তিনজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে দু’টি গুলি তার বাঁ হাতে লাগে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিত্সায় চার সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করে। এরপর অস্ত্রপচার করে গুলি বের করা হয়। এতেও অবস্থার উন্নতি না হলে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে শামীমের পারিবারিক সূত্র থেকে বলা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শামীমকে দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হাসপাতালে জড়ো হন। তারাও এই ঘটনার জন্য দায়ি সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ও সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায়ী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলির ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। গুলিবিদ্ধ শামীমের গাড়ি চালক কামাল হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধানমন্ডির ১০/এ নম্বর রোডের বাসা থেকে তিনি শামীমকে নিয়ে বের হন। সাদা রঙের প্রাইভেটকারের সামনে বসেন শামীম। আর পেছনের সিটে ছিলেন শামীমের এক চাচা। গাড়িটি ৯/এ নম্বর (ইবনেসিনা হাসপাতাল) সড়কের মোড় ঘুরতেই মোটর সাইকেলে আসা হেলমেট ছাড়া তিন আরোহী গাড়ির গতিরোধ করে। তারা সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির বাম পাশের জানালা দিয়ে শামীমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। ওই সময় শামীম মাথা নিচু করলে গুলি তার বাম হাতে লাগে। চিত্কার দিলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত সামনের দিকে পালিয়ে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল জানান, শামীমের বাঁ হাতের কব্জি ও কনুইয়ের মাঝখানে একটি এবং বাহু ভেদ করে আরেকটি গুলি বেরিয়ে গেছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়েছে। ধানমন্ডি থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সূত্র মতে, শামীমের প্রভাবে সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে সক্রিয় ঠিকাদারী করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গ্রুপিং রয়েছে। এসব কারণেও এই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে। তবে শামীমের স্ত্রী তাহমিনা খাতুন শিলু বলেন, তার স্বামী রাজনীতি করেন। রাজনৈতিক কারণেই তাকে মারার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত কোন শত্রু নেই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শামীম সমর্থক নড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম ইসমাইল হক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নড়িয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত আলীর নির্দেশেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। শওকত আলীর সমর্থিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খানের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এনামুল হক শামীমের উপর হামলা চালিয়েছে। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা সোয়া একটার দিকে ঘণ্টাখানেক ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শামীম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। এই হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। নড়িয়ায় বিক্ষোভ শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, এনামুল হক শামীমের উপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে নড়িয়া উপজেলার সদরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও শামীম সমর্থকরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ কিছু লোক স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত আলীর স্ত্রীর মাজেদা স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে।