ইরাকে বৃহত্তম তেলকূপ ঘিরে সরকার-জঙ্গি তুমুল লড়াই

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০৮
তেলের বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশংকা গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের আইএসআইএল জঙ্গিরা দেশটির বৃহত্তম তৈলকূপ এলাকা বায়জির ৭৫ শতাংশ নিজেদের দখলে নিয়েছে। কূপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে চলছে তাদের তুমুল লড়াই। বাগদাদের ২০০ কিলোমিটর দূরে অবস্থিত এই তেলকূপটি সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করলেও জঙ্গিরা চারদিক থেকে কূপটি ঘিরে ফেলেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। কূপটির ১৫ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারি এবং শতাধিক বিদেশী বিশেষজ্ঞ প্রাণ ভয়ে ইতিমধ্যে এলাকা ত্যাগ করেছেন। জঙ্গিরা ১৩ জন পুলিশকেও হত্যা করেছে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির ফলে চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তেলের বিশ্ববাজারে। গতকাল বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দর পৌঁছে যায় ১১৪ ডলারের কাছাকাছি, যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইরাকের পরিস্থিতির জেরে তেলের দর বাড়ায় দাম চড়ছে বিভিন্ন দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১১৩-১১৪ ডলার নয়, অচিরেই ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দর আন্তর্জাতিক বাজারে ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী তিন-চার মাস ওই দর থাকতে পারে। এদিকে, ইরাকে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং উত্পাদন ব্যাহত হলে চীনের তেল কোম্পানীগুলো উপসাগরীয় দেশটি থেকে চলে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইরাক হচ্ছে চীনে তেল সরবরাহারি অন্যতম প্রধান দেশ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে গতকাল একথা বলা হয়। চীনের ১০ হাজারেরও বেশী শ্রমিকের অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিশাল তেল ক্ষেত্রে কাজ করে। তবে এ অঞ্চলটি এখনো চলমান সংঘর্ষ থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড দ্য লেভান্ট (আইএসআইএল) দু’সপ্তাহের ক্ষিপ্র লড়াইয়ে ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের দখল নিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত জ্বালানী কোম্পানী চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পো (সিএওওসি) এর একজন কর্মকর্তা গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাকে বছেন, ‘শ্রমিকরা আগের মতোই কাজে গিয়েছে। তবে বিদ্রোহীরা বাগদাদ আক্রমণ শুরু করলে আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে ইরাক ছেড়ে আসবো।’