ইরাকে বিমান হামলা চালানোর ব্যাপারে দোটানায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:০৮
ইরাকে বিমান হামলা চালানোর ব্যাপারে দোটানায় পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকি সরকারের পক্ষ থেকে সুন্নি জঙ্গিদের দমনে বিমান হামলার চালানোর আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু বিমান হামলা চালালে সেটি ফলপ্রসূ হবে কিনা তা নিয়েও ওয়াশিংটনের দ্বিমত আছে। বিমান হামলা চালালে অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অনেক কংগ্রেসম্যান আবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকির পদত্যাগের কথাও বলছেন। খবর রয়টার্সের মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও বিমান হামলা চালানোর ব্যাপারে তেমন একটা উত্সাহ দিচ্ছে না। ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত ইরাকে হামলা চালানোর বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলেনি। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালাবে কিনা মার্কিন সিনেটরদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে জয়েন্ট চীফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পেতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে কিছু শর্ত দেওয়া উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরাক সরকার ড্রোন হামলাসহ ইরাকের আকাশে ড্রোন থেকে পর্যবেক্ষণ জোরদারের আহবান জানিয়েছেন। তবে সুন্নি বিদ্রোহীদের সংগঠন আইএসআইএল যেসব এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে সেসব স্থানে বিমান হামলা চালালে বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করাটা কঠিন হয়ে পড়বে। আর আলাদা করতে না পারলে ব্যাপক সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক মারা পড়তে পারেন। ফলে সেটা নেতিবাচকই হতে পারে। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এরদোগান বলেছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কথায় মনে হচ্ছে না যে এধরনের হামলা ইতিবাচক হবে। কারণ এতে বেসামরিক নাগরিকের একটা বিরাট অংশ নিহত হতে পারেন। সৌদি আরবের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরাকে বাইরের হস্তক্ষেপ ভাল কোনো ফল বয়ে আনবে না। ওই সূত্রটির দাবি, ওয়াশিংটন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন সৌদির এই মতের সঙ্গে একমতও হয়েছে। তারা সবাই মনে করছেন, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। নূরি আল মালিকিকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ওবামার ওপর রাজনীতিবিদরা চাপ সৃষ্টি করছেন এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে ওবামা এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। মার্কিন কংগ্রেসেরও নেতৃত্বাস্থানীয় অনেক নেতা ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর ওপরই উল্টো চাপ সৃষ্টির কথা বলছেন। সামপ্রদায়িক এই সংঘাত নিরসনে ওবামা কিছু একটা করবেন বলেও তারা আশা করছেন। সিনেটের ইন্টিলেজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান এবং ডেমোক্র্যাট ডাইয়ান ফেইনস্টেন বলেন, মালিকিকে এটা বলে দেওয়া উচিত যে আপনি যদি সমঝোতা করতে পারেন তাহলেই সরকার চালিয়ে যেতে পারবেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, মালিকিকে এটা স্পষ্ট করে দেওয়া উচিত যে আপনার সময় শেষ হয়ে গেছে।