শোকে আচ্ছন্ন স্পেন

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:১১
গ্রুপ পর্বে বুধবার চিলির বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের মধ্যদিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছে স্পেন। এর আগে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় হার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের এমন পারফরম্যান্সে শোকে মুহ্যমান স্প্যানিশরা। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় ক্যাসিয়াস ও জাভিরা যেমন হতাশ, তেমনই হতাশ স্প্যানের ভক্তকূলও। শোকের হাওয়া ছুঁয়ে গেছে স্পেনের পত্র-পত্রিকাগুলোকেও। চিলির কাছে হারের মধ্যদিয়ে স্পেন যুগের অবসান হয়েছে বলে হেডলাইন ছাপিয়েছে মার্কা, ‘বিদায় সোনালি বছরগুলোকে’। নিউজটিতে ভয়াবহভাবে স্পেন যুগের অবসান ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কার ভাষ্যকার সান্তিয়াগো সেগুরোলা স্পেনের বিদায়কে এভাবেই উল্লেখ করলেন, ‘দূর্দান্ত একটি প্রজন্মের অবসান হলো, একই সঙ্গে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।’ চিলির বিপক্ষে স্পেন গোল না পাওয়ায় দলের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি, ‘ম্যাচটিতে বড় ধরনের অনেক ভুল হয়েছে। মনে হয়েছে তারা (স্পেন) তারা ভেঙ্গে পড়েছে এবং অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।’ ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার মধ্যদিয়ে স্পেন দলের বেশ ক’জন তারকা খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে মনে করেন মার্কার বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেল লারা। এদের মধ্যে রয়েছেন, জাভি হার্নান্দেজ, জাতীয় দলের সর্বোচ্চ স্কোরার ডেভিড ভিয়া, ফার্নান্দো তোরেস ও জাভি আলোনসো। এছাড়া গোল কিপার ইকার ক্যাসিয়াসেরও ক্যারিয়ার এখানেই শেষ বলে মনে করেন মার্কার এই বিশ্লেষক। এদিকে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও এতদিন আধিপত্য ধরে রাখায় স্পেন দলের প্রশংসা করেছে দেশটির ক্রীড়াবিষয়ক অপর দৈনিক এএস, ‘এতদিন স্পেনের আধিপত্য ছিল দারুণ।’ চিলির বিপক্ষে লজ্জাজনকভাবে হারের দিনও দেল বস্কের শিষ্যদের অর্জন তুলে ধরেছে তারা। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরো এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন দলের ছবি ছাপিয়েছে ্এএস। হেড লাইনে তারা বলেছে, ‘ক্ষমা চেয়ো না, আমরা তোমাদের কাছে ঋণী।’ পত্রিকাটির ভাষ্যকার হুয়ামা ট্রুয়েবা স্পেন যুগের অবসানকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় দলের ব্যর্থতার সঙ্গে বার্সেলোনার ব্যর্থতার সরাসরি যোগসূত্রতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি, ‘কোনোদিন এমনটা হবে এটা আগেই বুঝা যাচ্ছিল। যদিও এমন বেদনাদায়ক বিদায় কখনো কল্পনাও করিনি আমরা। মনে হয়েছে দল অপরিচিত ও গেঁয়ো ধরনের ফুটবল খেলেছে।’ বৃহস্পতিবার সাধারণ দৈনিকগুলোতেও স্পেনের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার খবরটা বেশ গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো হয়েছে। যদিও এদিন দেশটির নতুন রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের শপথের খবরে বেশি কভারেজ পেয়েছে অনেক পত্রিকায়। শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র এল পেইস প্রথম পৃষ্ঠায় রাজার শপথকেই প্রাধান্য দিয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠার নিচের দিকে ছোট পরিসরে ‘বিশ্বকাপে স্পেনের পতন হয়েছে’ শীর্ষক একটি সংবাদ ছাপিয়েছে। সংবাদটিতে বলা হয়েছে, ‘এটা এমন একটি দুঃস্বপ্ন যা স্পেনের সাফল্যের মতোই দীর্ঘদিন স্মৃতিতে থাকবে।’ বার্সেলোনাভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মুনদো ডিপোর্তিভো স্পেনের বিদায় নিয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় ‘তারা বিতারিত’ শীর্ষক একটি খবর ছাপিয়েছে। দৈনিকটিতে কলাম লেখক সান্তি নোলা লিখেছেন, ‘দেল বস্কের সফল দলের পতন হয়েছে। এটা এখন পরিস্কার যে, দলে এখন নবায়ন দরকার।’ দলের পরাজয়ের প্রভাব পড়েছে স্পেন সমর্থকদের আমেজেও। মাদ্রিদে দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে ম্যানুয়েল লিস্তা নামক বারের এক সেলস ম্যানেজার এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন, ‘কেমন অনুভব করছি, আমাকে এটা জিজ্ঞাসা করছেন? দুঃখ, দুঃখ। আর কিছুই না। অত্যন্ত সাধারণ সাদামাটা ফুটবল খেলেছি আমরা। মোটেও ভাল খেলতে পারিনি।’ মাদ্রিদের বার্নাব্যু স্টেডিয়ামের সামনে হুয়ান তামায়ু নামের আরেক দর্শক বলেন, ‘আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এবারের আসরেও অন্যতম সেরা দল। কিন্তু তারা (স্পেন দল) এবারের আসরে আমাদের অপদস্ত করেছে।’ দলের এমন পারফরম্যান্সের দায় কোচ দেল বস্কের ওপর চাপিয়েছেন এই সমর্থক। ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে দলের এমন বিদায়ে কঠিন হিসেবের মুখে পড়েছে স্পেন কোচের ভবিষ্যত। এ ব্যাপারে দেল বস্ক বলেন, ‘এটা সত্যি যে, বিশ্বকাপ অথবা এ ধরনের বড় টুর্নামেন্টে দলের এমন পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব আছে। আমাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা দরকার। স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য যা ভাল এমন সিদ্ধান্তই নেয়া দরকার।’ আজকের খেলা ইতালি-কোস্টারিকা, রাত ১০:০০ ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড, রাত ১:০০ হন্ডুরাস-ইকুয়েডর, রাত ৪:০০