কলকাতায় নতুন সাম্রাজ্য গড়তে চেয়েছিলেন নূর

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:১১
দেশে আর ফিরতে পারবেন না নিশ্চিত জেনেই কলকাতাতে নতুন সাম্রাজ্য গড়তে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের অন্যতম হোতা নূর হোসেন। তাই দেশ থেকে সবকিছু গুটিয়ে নিতে চেয়েছিলেন কলকাতায়। কয়েকজন সহযোগীকে কলকাতায় যেতেও বলেছিলেন। নিজের মতো করে কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভাড়াও নিয়েছিলেন একাধিক ফ্ল্যাট। কিন্তু বিধি বাম- সবকিছু গুছিয়ে নেয়ার আগেই গ্রেফতার হয়ে যান। কলকাতায় যাওয়ার পর দুই কোটি টাকাও নিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা কার মাধ্যমে- কিভাবে নিলেন তা তদন্ত শুরু করেছেন কলকাতার গোয়েন্দারা। ভারতে অবস্থান করা কোন কোন সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠেছিল তারও তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কাদের আশ্রয়ে ছিলেন নূর হোসেন তাদের তথ্য উপাত্তের সন্ধান চলছে। কিভাবেই ভারতে প্রবেশ করলেন এই ভয়ঙ্কর অপরাধী? তবে বাংলাদেশ পুলিশের দেয়া তথ্যেই যে নূর হোসেন গ্রেফতার হয়েছেন তা এখনো স্বীকার করেননি কলকাতার এটিএস বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তারা। নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে কয়েক দফা জেরার পর এমনটাই জানতে পেরেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর কমিশনারেটের তদন্তকারী এটিএস অফিসাররা। নূর হোসেনকে জেরা করে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, শুধু কৈখালী নয় কাছেই ভিআইপি রোড সংলগ্ন স্পাইস গার্ডেন পানশালার ওপরে আরেকটি ফ্ল্যাট নিয়েছিলেন নূর হোসেন। সেখানেও তিনি মাঝে মধ্যে থাকতেন। ওই ফ্ল্যাটে মধ্য রাতে বেশ কিছু লোক যাতায়াত করত। তাদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। তদন্তে জানা গেছে নজরদারি এড়াতে বেনামে কলকাতায় বেশ কিছু মোবাইল সিম সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। সেই সিম ব্যবহার করে তিনি তার সঙ্গী-সাথী এবং ঢাকায় যোগাযোগ রাখতেন। নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন। ঢাকার কাদের সঙ্গে নূর কলকাতা থেকে নিয়মিত ভাবে যোগাযোগ করতেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নূর কলকাতায় চলে আসার পর তার বেশ কয়েকজন সঙ্গী সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। তারা কোথায় রয়েছে? নূরকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন, মধ্য কলকাতার একটি এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল নূর হোসেনের। স্থানীয় কয়েক যুবক তার সঙ্গী হয়েছিল। কলকাতায় ঘোরাঘুরির সময়ও তারাই ছিল নূরের সঙ্গী। গোয়েন্দাদের অনুমান স্থানীয়দের সঙ্গে ঘোরাফেরা করলে কেউ সন্দেহ করবে না। তাই স্থানীয় কিছু যুবককে নিয়ে তিনি কলকাতায় দল গড়ছিলেন। কলকাতায় নির্মাণ কাজ ভালো ব্যবসা। বিশেষ করে কৈখালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে নিউ টাউন এলাকায় প্রচুর নির্মাণ হচ্ছে। তবে সেখানে ব্যবসা করতে হলে স্থানীয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে সু-সম্পর্ক থাকতে হয়। এক সময় সুব্রত বাইনও এই ব্যবসায় টাকা ঢেলেছিল। নূরের ইচ্ছে ছিল এই ব্যবসায় টাকা ঢালার। তাই কয়েকজন ডেভেলপারের সঙ্গেও যোগাযোগ করছিলেন। ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছিলেন নির্মাণ সিন্ডিকেটগুলোর সঙ্গে। ইচ্ছে ছিল কলকাতায় নির্মাণ ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। এ কাজে তাকে সাহায্য করছিল এক যুবক। এই যুবক সুব্রত বাইনকেও কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় নির্মাণ শিল্পে টাকা ঢালতে সাহায্য করেছিল। এই যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারীরা বলেছেন, সঙ্গীদের নিয়ে নূর হোসেন মাঝে মধ্যে সীমান্ত এলাকায় যেতেন। যোগাযোগ করতেন সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা বাংলাদেশের কয়েকজনের সঙ্গে। জানা গেছে, সীমান্তে নূর হোসেন ব্যবহার করতেন বাংলাদেশের সিম কার্ড। সিম কার্ডে বাংলাদেশের কিছু নম্বর পাওয়া গেছে। নম্বরগুলো কাদের তা জানার চেষ্টা করছেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এটিএস সেলের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের অনুমান নূর হোসেন সীমান্তে গিয়ে বাংলাদেশে থাকা তার দলের সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন নারায়ণগঞ্জে নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য। ইচ্ছে ছিল কলকাতায় গুছিয়ে নিয়ে সেখান থেকেই নারায়ণগঞ্জের অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করবেন।