জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান নিহতের ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি আখ্যায়িত করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার সরকার। দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) দাবি করেছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য ভেবে গুলি চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে মিয়ানমার সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এসব তথ্য জানান। গত ১০ থেকে ১২ জুন বিজিবি ও বিজিপি’র মহাপরিচালক পর্যায়ের তিন দিনের বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে গতকাল এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
আজিজ আহেমদে বলেন, বৈঠকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও মানবপাচার বন্ধসহ ছয়টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় যৌথ টহল এবং সীমান্তে চলমান সংকট দূর করতে শীর্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগের নম্বর আদান-প্রদান করা হয়।
প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন সীমান্ত পার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যাওয়াটা বিজিবির ব্যর্থতা কিনা প্রশ্ন করা হয়। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ব্যর্থতা নয়, সীমাবদ্ধতা। আমাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি অংশ পূর্ণ নজরদারির ভেতর আনা এখনও আমাদের পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের ৪৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বত্র নজরদারির চেষ্টা করেছি। আমরা সীমান্তের অনেক পয়েন্ট সিল করেছি, টহল বাড়িয়েছি, স্থলবন্দরসমূহে চেকপোস্ট স্থাপন করেছি। তাই বলছি, এটা আমাদের ব্যর্থতা নয়, সীমাবদ্ধতা।
নারায়ণগঞ্জে সাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হাসমত আলি হাসুকে বিজিবি আটক করেও পরে ছেড়ে দিয়েছে- সাংবাদিকরা এমন অভিযোগ আনলে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়টা অবান্তর। আমাদের কাছে এ নামের কেউ গ্রেফতার হয়নি। ছেড়েও দেয়নি। বিজিবি মহাপরিচালক জানান, ইয়াবা নির্মূলে বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছে তারা। ইয়াবা রোধে তারা টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
