পদ্মা সেতু নির্মাণে নদী শাসনের কার্যাদেশ জুলাইয়ের শেষে

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:১৪
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য নদী শাসনের কার্যাদেশ দেয়া হবে আগামী জুলাইয়ের শেষ সপ্ত?াহে। পদ্মা সেতুর জন্য মোট ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন করা হবে। এ জন্য চার বছর সময় লাগবে। মূল সেতুর পাশাপাশি নদী শাসনের কাজও চলতে থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেতু ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যক্রম দুই ভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে মূল সেতু নির্মাণ এবং অন্যটি নদী শাসন। ১৭ জুন মূল সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী জানান, গতকাল নদী শাসনের কার্যাদেশ পেতে আগ্রহীদের আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। এ দিন তিনটি কোম্পানি আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এগুলো হল: কোরিয়ার ইয়ানডাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, বেলজিয়ামের জানডিনুল এনভি এবং চিনের সিনো হাইড্রো। ওবায়দুল কাদের বলেন, আশা করছি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে নদী শাসনের কার্যাদেশ দেয়া হবে। পাশাপাশি মূল সেতুর কার্যক্রমও চলবে। একই সঙ্গে দুই কাজ করতে সমস্যা হবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের সময়ও দুটি কাজ এক সঙ্গে হয়েছিলো। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেতু নির্মাণেও নদী শাসন ও মূল সেতুর কাজ এক সঙ্গে করা হয়। নদী শাসনের কার্য?াদেশ দেয়ার সুপারভিশন ও কনসালটেন্টের কাজ জুলাইয়ের মাঝামাঝি শুরু হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়া চায় না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এর আগে লালন সেতু ও কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ করেছে। এতে তাদের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এছাড়া ৩৫০টি সেতু নির্মাণকারী ওই প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ করা সেতুর কোনোটিই ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কম নয়। পরবর্তীতে অন্য কোন সরকারের সময়ও পদ্মা সেতুর কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পদ্মার সার্বিক কাজে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাই। এ সেতু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে মোট ব্যয়ের ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশ (৩ হাজার ১০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা) দেশীয় অর্থে এবং অবশিষ্ট ৭৪ দশমিক ৪০ শতাংশ (৯ হাজার ২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা) বৈদেশিক মুদ্রায় (ডলারে) পরিশোধ করতে হবে।