পদ্মা সেতু

ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে নামকরণের প্রস্তাব বিরোধী দলের

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৪, ২২:১৫
বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নামকরণের প্রস্তাব উঠেছে জাতীয় সংসদে। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এই প্রস্তাব রাখলে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তা সমর্থন করেন। স্বতন্ত্র দুই সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ও হাজী মো. সেলিমও পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে সমর্থন জানান ফিরোজ রশীদের প্রস্তাবে। পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান আওয়ামী লীগের ফারুক খানসহ সরকারি দলের আরও একাধিক সদস্য। প্রথমে এই প্রস্তাব উত্থাপন করলে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র সদস্য হাজী সেলিম ও ডা. রুস্তম আলী ফরাজী প্রস্তাব সমর্থন করেন। তারা বলেন, এই মহীয়সী নারী কাগজে-কলমে নেই। কিন্তু তিনি পেছনে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নামে পদ্মা সেতুর নামকরণ করা হলে দেশের মানুষ খুশি হবে। অধিবেশনের শুরুতে কাজী ফিরোজ রশীদ পয়েন্ট অফ অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে এই প্রস্তাব দিয়ে বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ এ মাসেই শুরু হবে। ২০১৮ সালে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী। একজন মহীয়সী নারীর কথা আমি স্মরণ করছি, যিনি কখনও পত্রিকার শিরোনামে আসেননি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ধারে কাছেও যাননি। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পেছন থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হচ্ছেন বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জীবনের অধিকাংশ সময় জেলখানায় কাটিয়েছেন। এসময় এই মহীয়সী নারী শুধু নিজ পরিবার নয়, গোটা আওয়ামী লীগ পরিবারের দেখাশোনা করেছেন। তার নামে পদ্মা সেতুর নামকরণের প্রস্তাব করছি। এরপর সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে কাজী ফিরোজ রশীদের প্রস্তাব সমর্থন করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে আমাদের ভাবী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পরামর্শ নিয়ে আমরা কাজ করেছি। আমাদের সেই ভাবী দলের নেতাকর্মীদের জন্য সবসময় একটি বড় ডেকচিতে ভাত রান্না করে পানি দিয়ে রাখতেন, সাথে রাখতেন পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ। গ্রামাঞ্চল থেকে আসা নেতা-কর্মীরা এসে তা খেতেন। তিনি কাগজে-কলমে নেই। পদ্মা সেতুর নামকরণ তার নামেই হওয়া উচিত। তাহলে আমরা পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় তার কথা মনে করতে পারবো। আমি গর্বভরে এই প্রস্তাব সমর্থন করছি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তখন অনেকেই অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, তোমার যা বলতে মন চাইবে তাই বলো। তিনি অনেক দানও করতেন। বিরোধী দল যে প্রস্তাব করেছে তা বাস্তবায়ন করা হোক। পরে আরেক স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী পয়েন্ট অফ অর্ডারে এই প্রস্তাব সমর্থন করে বলেন, এটা আমাদের সবারই মনের ইচ্ছা। আমিও এই প্রস্তাব সমর্থন করি। দেশ এখন রাষ্ট্রপতিশূন্য নয়: স্পিকার রুস্তম আলী ফরাজী পয়েন্ট অব অর্ডারে তার বক্তব্যের দ্বিতীয়াংশে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আপনাকে আজ কী বলে সম্বোধন করব, জানি না। সংবিধান সবারই মানা উচিত, সবারই ভক্তি করা উচিত। রাষ্ট্রপতি বর্তমানে দেশের বাইরে। সংবিধান অনুযায়ী আপনি স্পিকারের পাশাপাশি এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।’ এসময় স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনি সংবিধানের বিষয়টি সঠিকভাবে বলছেন না। রাষ্ট্রপতি দেশের বাইরে থাকলেই তিনি দায়িত্ব পালন করেন না, বিষয়টি তা নয়’। এরপর রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘দেশ এখন রাষ্ট্রপতিশূন্য, দেশ রাষ্ট্রপতিশূন্য থাকতে পারে না। দেশে যদি এখন কোনো ক্রাইসিস দেখা দেয়, তাহলে...’। পরে ‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডার নয়’ বলে মন্তব্য করে ফরাজীকে বসিয়ে দেন স্পিকার।