প্রণোদনা কিছুটা বাড়াচ্ছে চীন

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ১৯:৩০
গেল মে মাসে চীনের সেবাখাতে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ম্যানুফ্যাকচারিংয়েও প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে (পিএমআই) এ তথ্য ফুটে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় কর্মসংস্থান নিয়ে দেশটির নেতারা বেশ চিন্তিত। তাই প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, অবকাঠামো ও গ্রামীণ প্রকল্পে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর পক্ষে বেইজিং। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাসে উত্পাদন-বহির্ভূত খাতের পিএমআই আগের মাসের চেয়ে বেড়ে ৫৫-তে উন্নীত হয়েছে। চীনের জিডিপির ৪৩ শতাংশ এখন সেবাখাতের অবদান। গেল মাসে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই বেড়ে ৫০-এ উন্নীত হয়। এদিকে ব্যবসায়ে প্রত্যাশার সূচক এপ্রিলের তুলনায় কিছুটা কমে ৬০ দশমিক ৭-এ নামলেও তা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের আস্থা নিশ্চিত করেছে। কর্মসংস্থান কিছুটা কমেছে মে মাসেও। প্রসঙ্গত, পঞ্চাশোর্ধ্ব পিএমআই ওই নির্দিষ্ট খাতের উত্পাদন কর্মকাণ্ডে প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের অর্থনীতি এখনো ধীরগতির ফাঁদ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসেনি। বিভিন্ন উপসূচক বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কম। এমন একটি পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রণোদনা প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে সফল হবে বলে মনে করছেন বেশিরভাগ বিশ্লেষক। ২০০৮ সালের ৫৮৬ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ দেয় বেইজিং। শুরুতে তা কাজে লাগাতে পারলেও ২০১১ সালের পর থেকেই অতিরিক্ত উত্পাদন সক্ষমতার সমস্যা বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত ঋণ এরই মধ্যে চীনের করপোরেট খাত ও স্থানীয় সরকারের অনেক সামাজিক প্রকল্পের আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই আর্থিক খাত ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে আগের মতো বড় আর্থিক প্রণোদনা দেয়া থেকে বিরত থাকছে বেইজিং। তবে গ্রামীণ প্রকল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ শ্রমঘন উত্পাদনশীল কর্মকাণ্ডে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বর্তমান নীতি ধরে রাখছে সরকার। সরকারের অর্থনীতিবিদদের মতো তৃতীয় পক্ষের অনেক বিশ্লেষকও মনে করছেন, এটিই এখন চীনের করণীয়। তাদের প্রয়োজন প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান। তবে তা অবশ্যই আর্থিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রেখে।