জলিরপাড়ের ইমিটেশনশিল্প

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২১:০১
জলিরপাড় ইমিটেশনশিল্পের জন্য বিখ্যাত। টেকেরহাটের পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ও মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া-পলিতা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জ ও পিতলের গহনার জায়গায় বর্তমানে ইমিটেশন গহনা তৈরি করে ২ হাজার পরিবারের ১০ হাজার নারী-পুরুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কয়েক বছর আগে জলিরপাড়ের বাকচী বাড়ি ও বৈদ্যবাড়ির কয়েকজন কারিগর পিতল ও দস্তার সংমিশ্রণে শংকর ধাতু ব্রোঞ্জ দিয়ে পুরুষ-মহিলাদের বিভিন্ন বাহারি ডিজাইনের আর্কষণীয় গহনা, হাতের আংটি, চুড়ি, কানের দুল, নাকফুল, কবচ, মাদুলি, নূপুর, হাতের বাজু, চেন, ক্লিপ, ঝুমকা, চুলের কাঁটা তৈরি করতে আরম্ভ করেন। এসব গহনা দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয়তা লাভ করলে এ ক্ষেত্রের কারিগরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পর্যায়ক্রমে জলিরপাড়ের পার্শ্ববর্তী বনগ্রাম, গোয়ালগ্রাম, আচাড়পাড়া, শান্তিপুর ও মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া, সাতপাড়, পলিতা, ছাতিয়ানবাড়ি, উল্লাবাড়ি ও চৌয়ারিবাড়ি এলাকার কারিগররা এই ইমিটেশন গহনা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। জলিরপাড়ে গড়ে উঠেছে একটি ইমিটেশন গহনার মার্কেট। সারাদেশ থেকে পাইকার ফেরিওয়ালারা এই মার্কেটে এসে গহনা কিনে নিয়ে যান। এছাড়াও ঢাকার চকবাজারের ইমিটেশন গহনার মার্কেটে, সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, পার্বতীপুর, রংপুর, সৈয়দপুর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরের মার্কেটেও এখানকার গহনা রফতানি হয় । জলিরপাড় শিল্প এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের সদস্যরা নিয়মিতভাবে গহনা তৈরি করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীগণ জানান, প্রতিদিন পালিশবিহীন ৯-১০ মণ গহনা বিক্রি হচ্ছে । দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা আসছেন কিনতে। ইমিটেশনের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ঝিনুকের মালা, দুল, ক্লিপ প্রভৃতি। প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক এ কুটিরশিল্পের কাজ করছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মহিলা। শিল্পবাজারে ইমিটেশন কাজে মূলত তিনটি গ্রুপ। হাত মেশিনে দস্তার তৈরি পাত কেটে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে এক গ্রুপ। অন্য গ্রুপ সরাসরি মাল কেনে। বাকি গ্রুপটি মালামাল নিকেল করে বাজারজাত করে। জলিরপাড়ের ইমিটেশনের চাহিদা শুধু বাংলাদেশেই নয় বিদেশেও রয়েছে। ভারত ও সিঙ্গাপুরের ইমিটেশন গহনার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পারার কারণে বর্তমানে ব্যবসায় একটু মন্দা যাচ্ছে। কারণ আমাদের নিকেলে যে রঙ ব্যবহার করা হয় তা বাংলাদেশে তৈরি। ক’ দিন ব্যবহারের পর এগুলোর রঙ ওঠা শুরু হয়। অন্যদিকে ভারত থেকে চোরাইপথে নিয়মিত গহনা আসার ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি গহনার চাহিদা হ্রাস পেতে চলেছে । কোনো রকম সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই ত্রি মোহনায় অবস্থিত জলিরপাড়ের কুটিরশিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কোনোমতে আজো টিকে আছেন। প্রত্যেকে তাঁদের নিজ বাড়িতে বসেই তৈরি করছেন এ সমস্ত বাহারি ডিজাইনের গহনা। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগর ও জলিরপাড়ের ইমিটেশন মার্কেটের গহনা বিক্রেতা জানান, জলিরপাড়কেন্দ্রিক ঐতিহ্যবাহী এই ইমিটেশনের গহনাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন । মাদারীপুর