বিভিন্ন স্থানে পাঁচজন খুন

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২১:০৭
বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঘটনায় পাঁচজন খুন হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। ধামইরহাটে সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৩ ধামইরহাটের ছিলিমপুর গ্রামে গতকাল শুক্রবার দুপুরে আমন ধানের বীজতলার বীজ গুঁড়িয়ে দেয়াকে কেন্দ্র সংঘর্ষে জালালউদ্দিন নামে একব্যক্তি নিহত ও তিনজন আহত হন। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওবায়দুল ইসলামের ছেলে রাসেল কয়েকটি গরু দিয়ে কফিল উদ্দিনের বীজতলার বীজ গুঁড়িয়ে দিতে থাকে। এতে কফিলউদ্দিনের স্ত্রী জোছনা ও তার বোন আমেনা রাসেলকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় জোছনার বৃদ্ধ চাচা জালালউদ্দিন সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ওবায়দুল ইসলামের লোকজনের বাঁশের লাঠি ও দরজার চৌকাঠ দিয়ে জালালউদ্দিন ও তার ভাতিজিদেরকে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। এতে জালালউদ্দিন ও তার দুই ভাতিজির মাথা ফেটে যায়। গ্রামবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে জালালউদ্দিন মারা যান। ধামইরহাট থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শিবগঞ্জে গণপিটুনিতে মাদকাসক্ত যুবক নিহত বগুড়ার শিবগঞ্জে গতকাল শুক্রবার ভোরে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে রাজু মিয়া (২২) নামে এক মাদকাসক্ত যুবক নিহত হয়েছেন। থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, মাদকাসক্ত রাজুকে কিছুদিন আগে লোকজন আটক করে থানায় সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছিল। সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও মাদক সেবন শুরু করে। আর মাদকের টাকা জোগাড় করতে সে চুরি করতো। বৃহস্পতিবার রাতে সে একই এলাকার রাজা মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। তাকে আটকের পর স্থানীয় স্কুল মাঠে বেঁধে রাখা হয়। চোর ধরার খবর পেয়ে রাতেই গ্রামের লোকজন গিয়ে তাকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে শুক্রবার ভোরে রাজু মারা যায়। শিবগঞ্জ থানার ওসি একেএম খালেকুজ্জামান বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার এ বিষয়ে মামলা করবে বলে জানা গেছে। নাগেশ্বরীতে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার নাগেশ্বরীর নীলুর খামার চরুয়াটারী গ্রামে গতকাল শুক্রবার মানিয়া আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ৬ মাস আগে মুকুল মিয়া ও তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বনিবনা না থাকায় বেশিরভাগ সময়েই তানিয়া বাপের বাড়িতে থাকতো। এক সপ্তাহ আগে সে স্বামীর বাড়িতে আসে। শুক্রবার সকালে তানিয়ার গলাকাটা লাশ ও ছুরিকাহত আহত মুকুল মিয়াকে দেখতে পায়। স্বামীকে জড়িত সন্দেহে আটক দেখিয়ে চিকিত্সার জন্য নাগেশ্বরী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, নিহতের পিতা মকবুল হোসেন বাদী হয়ে মুকুলসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। যমুনা জুটমিলে অগ্নিকাণ্ডে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকার বেসরকারি ‘যমুনা জুটমিলে অগ্নিকাণ্ডে গত বৃহস্পতিবার বিকালে মইফুল বেগম (৬০) নামে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, বিকাল ৪টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ধারণা করা হচ্ছে মিলের মেশিনের স্পার্কিং থেকে পাটের আঁশে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে পাট ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মইফুলের সহকর্মী রেখা বেগম জানান, আগুন জ্বলতে দেখামাত্র তিনি আরেকজন শ্রমিকের হাত ধরে বাইরে চলে আসেন। মইফুলকে ডাক দেন। কিন্তু মইফুল মেশিন থেকে উঠে মাল আনতে গিয়েছিলেন। ধোঁয়ায় আটকা পড়ে তিনি বের হতে পারেননি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরে জানালা ভেঙ্গে তাকে মৃত অবস্থায় বের করা হয়।