জাপানকে রুখে দিল দশ জনের গ্রীস

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২১:৪৭
জয়ের দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলো না জাপান। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় এশিয়ান পরাশক্তিরা গত বৃহস্পতিবার ১০ জনের গ্রীসের সাথে গোলশূন্য ড্র করতে বাধ্য হয়েছে। ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় এক জন খেলোয়াড় কম নিয়েও প্রতিপক্ষকে গোল বঞ্চিত রাখতে পারায় গ্রীক দলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। আর এই দুই দলের সমতার রাতে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে নক আউট রাউন্ডে উত্তরণ নিশ্চিত করে ফেলেছে কলম্বিয়া। নাতালের এরিয়া দুনাসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন গ্রীক অধিনায়ক কোনসটানটিনোস কাটসোরেনিস। ফলে বাকি সময়টা জাপান কিছুটা হলেও এগিয়ে ছিল। কিন্তু এশিয়ান জায়ান্টরা সেই সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারেনি। প্রতিপক্ষকে পুরোটা সময় গোলবঞ্চিত রাখতে পেরে দারুণ খুশি সান্তোস। একজন খেলোয়াড় কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই গ্রীসকে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নিতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিরতির সময় খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, আমাদের রক্ষণ জমাট হবার বিকল্প নেই। আমাদের লক্ষ্য ছিল মাঝমাঠ থেকে তাদের পিছু হটানো এবং সেই কাজে আমরা সফল হয়েছি। যদিও, ম্যাচে আধিপত্য ছিল জাপানেরই।’ গোল করতে না পারলেও ম্যাচে নিরঙ্কুশ আধিপত্যই ছিল জাপানের। গ্রীসের ১৭৭ পাসের বিপরীতে তাদের মোট পাস সংখ্যা ছিল ৫৫৩। আক্রমণভাগ তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি জানিয়ে ৫৯ বছর বয়সী সান্তোস বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম লড়াই করার উপায় হচ্ছে জমাট রক্ষণের পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়া। তবে সেটা করতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বল পেতে হবে। আমার মনে হয় মাঝে মাঝে সফল হলেও বেশিরভাগ জায়গায় আমরা ছিলাম ব্যর্থ।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে হতাশাজনক মৌসুম কাটানো জাপানীজ উইঙ্গার শিনজি কাগাওয়াকে বদলি বেঞ্চে রেখে কোচ আলবার্তো জাকেরোনি এই রাতে মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কাগাওয়ার বাজে ফর্মই কোচকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। লেফট ব্যাক ইউতো নাগাতোমো এবং তারকা মিডফিল্ডার কেইসুকে হোন্ডার দুর্দান্ত পারফরমেন্সে প্রথমার্ধ পুরোটাই মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল জাপানীজদের। গ্রীসের জন্য অবশ্য ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ হয় শীর্ষ স্ট্রাইকার কোস্টাস মিট্রোগলুসের ইনজুরি। ৩৫ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় ফুলহ্যামের এই স্ট্রাইকারকে। এর তিন মিনিট পরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে কাটসোরেনিস মাঠ থেকে বাইরে চলে গেলে গ্রীস দলটি এলোমেলো হয়ে যায়। এই কার্ডের পরপরই গ্রীস কোচ ফার্নান্দো সান্তোস দ্রুত খেলোয়াড় পরিবর্তন করে ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। মধ্যমাঠে ভাল খেলতে থাকা ইয়োনিস ফেটফাটজিদিসের স্থানে তিনি জাতীয় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা জর্জিওস কারাগোনিসকে মাঠে নামান। ম্যাচের শেষের দিকে জাপানের কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হলে ফলাফল হয়ত অন্যরকমও হতে পারতো। ডানদিক থেকে কাগাওয়া আটসুটো উচিডার দিকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ডিফেন্ডারের ক্রস থেকে ইতোশিতো ওকুবার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। নাগাতোমোর পাস থেকে গ্রীক বক্সের ভিতরে উচিডা আবারো সুযোগ নষ্ট করেন। ৭৭ মিনিটে ৩০ মিটার বাইরে থেকে ওকুবার জোরালো শট গ্রীক গোলরক্ষক ওরেসটিস কারনেজিস কোনরকমে রক্ষা করেন। ৯০ মিনিটে শেষ সুযোগটি পায় জাপান। গোল এরিয়ার ঠিক বাইরে থেকে প্রাপ্ত ফ্রি-কিকটি কাজে লাগাতে পারেননি ইয়াসুহিতো এন্ডু।