দুইযুগ পর ১০টি মরা খাল যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
খননের অভাবে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে মরা অবস্থায় পড়ে ছিল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ১০টি খাল। এ সময় খালগুলো জনগণের কোন কাজে আসেনি। এখন এগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ১১টি প্যাকেজের মাধ্যমে ১০টি খাল খনন করে। এই খাল খননে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে। খননকৃত খালগুলো হলো সাদুল্লাপুর গঁচাপাড়া খাল, হাজরাবাড়ী খাল, রাধাগঞ্জ খাল, বুজুর্গোকোনা-রাজাপুর খাল, ভূদেব বাবুর খাল, মুশরিয়া খাল, নারিকেল বাড়ী খাল, শিমুলিয়া ভাঙ্গা খাল, মাদারবাড়ী ও পোলটানা খাল। এক বছর আগে শুকনো মৌসুমে এ সব খাল পানির অভাবে শুকিয়ে চৌচির হয়ে থাকতো, ঠিক এক বছর পরে আজ সেই খালগুলোতে জোয়ার বইছে। উপজেলার সাদুল্লাপুর, বান্ধাবাড়ী, রামশীল ও রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের এই ১০টি খাল খনন করায় হাজার হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে। আবাদি জমির ফসল সহজেই এই খালগুলো দিয়ে কৃষকেরা নৌকায় করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছে। অপর দিকে শুকনো মৌসুমে এ সব খাল শুকিয়ে যাবার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন চরম ভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ সব খালে ব্যাপকভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে বলে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার জানিয়েছেন। উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের হাজরাবাড়ী গ্রামের দুলাল হাজরা বলেন, আমাদের এলাকার হাজরা বাড়ী খাল খনন করায় এ বছর আমরা সহজেই খাল থেকে বোরো জমিতে সেচ দিতে পেরেছি। গত বছরের চেয়ে জমিতে ফলন বেশি হয়েছে। বুজোর্গকোনা গ্রামের বাবুল শেখ বলেন, আমাদের এলাকায় খাল খনন করে খালের দুই পাশে মাটি ফেলে পায়ে হাঁটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। আমরা এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, ৪টি ইউনিয়নের ৬৫ কিলোমিটার খাল খননে ১০ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় এসেছে। আগে যাদের বোরো আবাদের সময় পানি দিতে সমস্যা হতো তারা এখন সহজেই জমিতে পানি দিতে পারবে। একইভাবে যদি উপজেলার আরও ৮টি ইউনিয়নে মরা খাল খনন করা হতো তাহলে অত্র উপজেলায় অনাবাদি জমির পরিমাণ কমে যেত।