সমস্যার আবর্তে হাবুডুবু খাচ্ছে রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, শিক্ষক, হোস্টেলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু এসব যেন দেখার কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী প্যারামেডিক্যাল নামে ১৯৭৬ সালে বর্তমান আইএইচটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ৪০ ছাত্রের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন ১০ জন। তখন ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও রেডিওগ্রাফি নামের তিনটি অনুষদ ছিল। প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পরও বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা ১০ জনই। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত অতিথি শিক্ষক দিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস নেয়া হয়। সূত্র মতে, বর্তমানে ৭টি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। এরমধ্যে ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, ডেন্টাল, ফিজিওথেরাপি ও রেডিওথেরাপি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমা কোর্স প্রদান করা হয়। আর স্যানিটারি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এসআইটি) বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রদান করা হয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত টেকনোলজিস্টদের। এছাড়া ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ফিজিওথেরাপি ও ল্যাবমেডিসিন বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
সূত্র জানায়, ৭টি বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং ২টি বিষয়ে বিএসসি কোর্সে সব মিলিয়ে রাজশাহী আইএইচটিতে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা দেড় হাজার। সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি কোনো সুযোগ-সুবিধা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাসরুমের সংকট রয়েছে। কোনো বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ক্লাসরুম নেই। ক্লাসের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। ফিজিওথেরাপি ও রেডিওলজি বিভাগে ব্যবহারিকের যন্ত্রপাতি নেই। অন্যান্য বিভাগে যেসব যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলোও সেই মান্ধাতার আমলের।
বিএসসি ফিজিওথেরাপি তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, তাদের অনুষদে কোনো পার্মানেন্ট (স্থায়ী) শিক্ষক নেই। গেস্ট টিচার দিয়ে তাদের ক্লাস নেয়া হয়। বিএসসির থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, কাইনেসিওলজি, ইলেকট্রোথেরাপি কোর্সের জন্য ঢাকা থেকে অতিথি শিক্ষক আনতে হয়। এ বিষয় পড়ানোর জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফিজিক্যাল মেডিসিনের বিভাগের শিক্ষকরাও অতিথি হিসেবে ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যেসব কোর্সের জন্য বছরে একশ’ ক্লাস নেয়া দরকার সেখানে ১০টি ক্লাস নিয়েই অতিথি শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। এছাড়া বিএসসির জন্য আলাদা কোনো ক্লাসরুম এমনকি ল্যাবরেটরি নেই।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আবাসিক ব্যবস্থা। ছাত্রীদের জন্য হোস্টেলে বরাদ্দ ১০০ জনের। ছেলেদের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা ২০৮ জনের। ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের শেষ নেই। শিক্ষার্থীদের ডাইনিংয়ের খাবারের জন্য আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে সাবসিডিরও কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। এসব বিষয়ে আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. গাজীউল আলম বলেন, শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানোসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা উভয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বেশ কয়েক দফা চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। আমরা বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
