আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট পুলিশ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজশাহী মহানগরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আকরাম হোসেন খান নামে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের দৈবজ্ঞহাটি গ্রামের প্রয়াত জয়নাল আবেদিন খানের ছেলে। তাকে নিয়ে পুলিশ শুক্রবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এদিকে গত ১১ জুন একই অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সোলারকোলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল লতিফ তালুকদারকে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আকরাম হোসেন খানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসাথে ৪২ জনকে হত্যা, বাজার লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। ইতিহাসে ঘটনাটি শাঁখারীকাঠি গণহত্যা নামে পরিচিত। বর্তমান সরকারের সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজাকার আকরাম হোসেন খান ও আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে একটি মামলা করেন।
এই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. হেলাল উদ্দিন মুঠোফোনে শুক্রবার সকালে এই প্রতিবেদককে বলেন, আকরাম হোসেন খান ও আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ ২০-৩০ জন সশস্ত্র লোকজন ১৯৭১ সালের ৫ মে কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে গিয়ে নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ৪২ জনকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাগেরহাট জেলায় মোট ৬৩টি মামলা হয়। মামলাগুলো তদন্ত করে রামপাল উপজেলার ডাকরা গণহত্যা, কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি গণহত্যাসহ কিছু মামলা আমলে নিয়েছি। নিমাই চন্দ্র দাসের মামলাটি (শাঁখারীকাঠি গণহত্যা মামলা) গত বছরের ২১ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠালে আদালত মামলাটি আমলে নেয়। গত ১০ জুন আকরাম হোসেন খান ও আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
