রংপুরে স্কুল শিক্ষকের প্রতারণায় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। মহানগরীর চওয়াহাট এলাকায় গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার আগে মেয়েটি নিজ হাতে একটি চিরকুট লিখেছে, আমার মৃত্যুর জন্য প্রতারক শিক্ষক শফিউল আলম প্রিন্স দায়ী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর বেনুঘাট গ্রামে আবদুল আজিজের মেয়ে রাজেনা খাতুন রংপুর সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ৩ মাস আগে ওই এলাকার বেনুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিউল আলম প্রিন্স বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এদিকে ২ মাস আগে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করা হয়। বিয়ের একদিন আগেই শিক্ষক মেয়েটিকে তুলে দিনাজপুরে নিয়ে যায়। এরপর ভুয়া বিয়ের কাবিন দেখিয়ে সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতারণার শিকার মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এদিকে এ খবর জানতে পেয়ে গত ১৪ জুন শিক্ষক শফিউল আলম প্রিন্সের আসল স্ত্রী জমিলা দিনাজপুরে গিয়ে তাদের হাতেনাতে পাকড়াও করে। সেখানে প্রিন্স তার স্ত্রীর কাছে স্বীকার করেন যে তিনি রাজেনা খাতুনকে বিয়ে করেনি। রাজেনার সাথে তার বিয়ের সব কাগজপত্র ভুয়া। সবকিছু জানতে পেরে রাজেনা খাতুন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।
খবর পেয়ে রাজেনার পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর সবার অজান্তে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ঘরের দরজা বন্ধ করে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন রাজেনা বেগম। কোতয়ালী থানার এসআই মশিউর রহমান তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
