লেবাননে বাংলাদেশের ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ব্যাপক

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২২:১১
বাংলাদেশ থেকে ৭ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর দেশ লেবানন। জনসংখ্যা ৪৫ লাখ। বিশাল সমুদ্র সৈকত আর অপার সবুজ ছায়া ঘেরা লেবাননে বাংলাদেশের ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। লেবাননে তেমন কোন মিল কারখানা নেই। সবই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রায় ১২ লাখ সিরীয় শরণার্থী লেবাননে অবস্থান করছে। এছাড়া শরণার্থী হিসেবে রয়েছে বিপুলসংখ্যক প্যালেস্টাইন নাগরিক। লেবানন সরকার তাদের চিকিত্সা সেবা এবং থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভার বহন করে আসছে। ইতিমধ্যে বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের কাছে ওষুধ সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের আবেদন জানিয়েছে লেবানন। যেহেতু লেবাননে কোন ওষুধ উত্পাদনের প্রতিষ্ঠান নেই, এ কারণে লেবাননে রয়েছে ওষুধের ব্যাপক চাহিদা। লেবাননবাসীর কাছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুনামের শেষ নেই। একারণে লেবানীজদের ধারণা, বাংলাদেশের ওষুধ খুবই ভাল হবে। চামড়াজাত পণ্য ছাড়া লেবানীজদের কাছে রয়েছে তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা। ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধি লেবাননে বিভিন্ন কর্মকর্তা ছাড়াও সে দেশের অর্ধশতাধিক তরুণ-তরুণী এবং ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষের সঙ্গে আলাপ করেন। তারা একবাক্যে বলেছেন, লেবাননে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কৃতিত্ব লেবানীজরা ভুলবে না। তারা বলেন, আমাদের অতীত ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ একটি সক্ষম জাতি। বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যসহ সকল পণ্যের প্রতি আমাদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। লেবাননের অবাধ মার্কেটে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য আসলে লেবানীজরা লুফে নেবে। দুই তরুণী জানান, তারা দৈনিক এক হাজার ডলার কিংবা লিরা (লেবানন মুদ্রা) আয় করলে কমপক্ষে ৭শ থেকে ৮শ ডলার অথবা লিরা সৌন্দর্যচর্চায় ব্যয় করে থাকেন। চামড়াজাত পণ্যের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশী বলেও জানান তারা। লেবাননে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এএফএম গাউসুল আজম সরকার বলেন, তিনি লেবাননে আসার পর শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। তারাও এ মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে পারেন। লেবানন সরকার ও ব্যবসায়ীরা ওষুধের উপর জোর দিয়েছে বেশী। ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও গার্মেন্টস সামগ্রী লেবাননে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করলে সে দেশের সরকার ও চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, শরণার্থীদের জন্য ওষুধের সংকট চলছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকার লেবানন সরকারকে ওষুধ সামগ্রী সাহায্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। এ বিষয়টি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধি লেবাননে বাংলাদেশের ওষুধ সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদার কথা জানালে, সেখানে বাংলাদেশের ওষুধের বিশাল মার্কেট সৃষ্টিতে যা যা দরকার, তা-ই করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া লেবাননে ডাক্তার নার্সের চাহিদাও ব্যাপক। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সহকারি প্রধান রিয়াল এডমিরাল এএমএমএম আওরঙ্গজেব চৌধুরীর সঙ্গে মিডিয়ার একটি দল গত ১০ জুন লেবাননে যায়। লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুইটি যুদ্ধজাহাজ ওসমান ও মধুমতির কমাণ্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যোগদান করেন নৌবাহিনীর সহকারি প্রধান আওরঙ্গজেব চৌধুরী। এছাড়া তিনি মিশনের ফোর্স কমান্ডার, লেবাননের আর্মড ফোর্সেস চীফ অব স্টাফ, মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের কমান্ডার ও লেবাননের নৌবাহিনী প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। লেবাননে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ওসমান ও মধুমতির টানা ৪ বছর ভূমধ্যসাগরে নিরাপত্তা প্রদানে দুঃসাহিসক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কবলিত ভূমধ্যসাগরে লেবাননবাসীর নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়নতা ও দুঃসাহসিকতার প্রশংসা সে দেশের সরকার, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ সকল স্তরের মানুষের মুখে মুখে। এরই প্রভাব পড়েছে লেবানীজদের কাছে। ফলে তারা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানীকৃত সকল পণ্য গ্রহণ করতে আগ্রহী।