বাংলাদেশের খাদ্য তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘রুটি’। ভাতের পরেই যার স্থান। আর এই রুটি বানানো কিন্তু সহজ কাজ নয়। রুটি হাতে বানাতে গিয়ে অনেক গৃহিণীই গলদ ঘর্ম হয়ে পড়েন। আবার অনেকে রুটি এবড়ো-থেবড়ো করে ফেলেন। গৃহিণীদের এই কষ্টের কথা চিন্তা করেই মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতী গ্রামের হুমায়ুন কবির তৈরি করেছেন রুটি বানানোর মেশিন ‘লাইবা রুটি মেকার’। এই রুটি বানানোর যন্ত্র দিয়ে ছেলে, বুড়ো সবাই খুব সহজেই রুটি তৈরি করতে পারেন। কাঠের তৈরি এই মেশিন দিয়ে রুটি বানাতে সময় লাগে মাত্র ২ সেকেন্ড।
হুমায়ুন কবির একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। তবে পেশার বাইরে নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি তার ঝোক ছিল বরাবরই। রুটি বানানো নিয়ে মহিলাদের কষ্ট ও বিড়ম্বনার বিষয়টি তার অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। রুটি বানানোর বিদেশি মেশিন বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু বিদ্যুত্চালিত এ মেশিনগুলোর বিদ্যুত্ খরচও বেশ। এছাড়া ঐসব মেশিনে সিদ্ধ আটার রুটিও তৈরি করা যায় না। সর্বোপরি প্রায় সময় বিদ্যুত্ও থাকে না। মহিলাদের জন্য এ আর এক বিড়ম্বনা।
হুমায়ুনের আবিষ্কৃত রুটি তৈরির মেশিন লাইবা রুটি মেকারের বিশেষত্ব হচ্ছে-মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ১৫ থেকে ২০টি রুটি বানানো যায়। এ যন্ত্রটির স্থায়িত্ব ১৫ থেকে ২০ বছর। তাছাড়া বিদ্যুত্ খরচ নেই। এই মেশিনে গমের সিদ্ধ আটার রুটি, গমের কাঁচা আটার রুটি, সিদ্ধ চালের গুঁড়ার রুটি, তালের রুটি, কালিজিরা রুটি, মাসকলাইয়ের রুটি, মিষ্টি আলুর রুটি, দিল্লিকা রুটি ছাড়াও বেসন রুটি, ভেজিটেবল টোস্ট রুটি, মাসরুম রুটি, ইন্ডিয়ান বাটার রুটি বানানো যায়। এছাড়াও এগ পরোটা, ক্যাপসিকাম চিজ পরোটা, পিস পরোটা, টরতিয়া, লুসি ও ফুসকা প্রভৃতি তৈরি করা যায়।
এরই মধ্যে লাইবা রুটি মেকার মেশিনটি ভারত, ভুটান, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, দুবাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যুিবহীন ও সহজ উপায়ে রুটি তৈরি হওয়ায় সেখানেও সুনাম অর্জন করেছে এই মেশিন।
আবিষ্কারক হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন কিছু উদ্ভাবনের ঝোক থেকেই ২০১১ সালে রুটি বানানোর মেশিন তৈরির কাজে হাত দেন। মেশিনটির নাম দেন তার ছোট্ট মেয়ে লাইবার নামে ‘লাইবা রুটি মেকার’। তিনি প্যাটেন্ট রেজিস্ট্রেশন করে তার নিজের বাড়িতে একটি কারখানা স্থাপন করেছেন। সেখানে ১২জন কারিকর নিয়মিত কাজ করছেন। প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০টির মত মেশিন তৈরি হলেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তার ইচ্ছা, কাঠের এই মেশিনটিকে সেমি-মেটালে উন্নীত করে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার মেশিন তৈরি করতে পারলে একদিকে যেমন মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেই সাথে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, মানভেদে এই মেশিনটির দাম ৩ হাজার ৮শ’ টাকা, ৪ হাজার ৫শ’ টাকা এবং হেভি ডিউটির মডেলের দাম আলাদা। তবে মেশিনটি তৈরি করতে পূর্ণ মেটাল ব্যবহার করে অটোমেটিক ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করা গেলে মেশিনের দাম অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে মেশিনটি সব ধরনের মানুষের ক্রয়সাধ্য হবে। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে কারখানাটির পরিধি বাড়াতে পারছেন না তিনি। তার মতে, সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে রুটি বানানোর এই মেশিনটির দ্রুত প্রসার ঘটানো সম্ভব।
