আকাশে ঘন কালো মেঘ হলেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া উচিত

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২২:১৮
বজ্রপাতে মানুষ হতাহতের সংখ্যা বেড়ে চলছে। শুক্র ও শনিবার সারাদেশে বজ পাতে ১৯ জন নিহত হয়েছে। বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার কৌশল ও সতর্কতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। বছরে বজ্রপাতে দেশে কত মানুষ হতাহত হয় তারও কোন পরিসংখ্যান সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই আবহাওয়া দপ্তরের। শুধু গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ থেকে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর একটা ধারণা পাওয়া যায়। আবহাওয়াবিদদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দেশে বর্ষার আগ মুহূর্তে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। বর্ষার বিদায় পর্যন্ত বজ্রপাত হয়ে থাকে। এতে মানুষ মারা যায়। মার্চ থেকে দেশে কাল বৈশাখী ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়, চলে মে পর্যন্ত। আবহাওয়া দপ্তরের সাবেক পরিচালক দেশের বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, আবহাওয়া বিজ্ঞান অনুযায়ী গ্রীষ্মকালে দিনের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ সময় বাতাস উত্তপ্ত হয়ে উপরে উঠতে থাকে। জলীয় বাষ্পও ঊর্ধ্ব আকাশের দিকে উঠতে থাকে। মেঘের ভিতর জলীয় বাষ্প ঢুকতে থাকে। মেঘের ভিতর যত বেশি জলীয় বাষ্প ঢুকবে তত বেশি উলম্ব মেঘের সৃষ্টি হবে। এ আপ ও ডাউন ড্রার্ফ বাতাসের মধ্যে চলতে থাকে। এ থেকে সৃষ্টি হয় বজ গর্ভ মেঘ। এ মেঘের উপরভাগে পজেটিভ ও নিচের ভাগে নেগেটিভ বিদ্যুত্ সৃষ্টি হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ থেকে বিদ্যুত্ সঞ্চালনকালে বজ্রের সৃষ্টি হয়। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘের মিলন কালে বাতাসের উত্তাপ ২০ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৩০ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। তখন মেঘের ভিতর থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন গ্যাসের সম্প্রসারণ ঘটে। এতে মেঘের গর্জন তৈরি হয়। তারপর প্রচণ্ড ঝলকানি দিয়ে পৃথিবীর বুকে আঁছড়ে পড়ে। এর গতির সামনে মানুষ বা অন্য কোন প্রাণী পড়লে মৃত্যু অবধারিত। বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচা খুবই কঠিন। সতর্ক হলে মৃত্যু হার কমানো যেতে পারে। আকাশে ঘনকালো মেঘ দেখলেই মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেয়া অধিক নিরাপদ। চলন্ত গাড়িতে থাকলে জানালার কাচ বন্ধ করে থাকতে হবে। ফাঁকা মাঠ, গাছের নিচে, বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন ও টেলিফোনের খুঁটির নিচে থাকা বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় পানির সংস্পর্শে থাকা আরো বিপজ্জনক। বিদ্যুত্ চমকানোর সাথে সাথে মাটি স্পর্শ করে।