খুলনা মহানগরীসহ দক্ষিণের সমস্ত হাট-বাজারে হঠাত্ করে মৌসুমী ফলের আমদানি বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে যাওয়ার সময় মৌসুমী ফলের ট্রাক বোঝাই চালানগুলোতে ফরমালিন আছে কি-না তা পরীক্ষার জন্য ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের ফলের সম্ভার এখন ঢাকার পরিবর্তে এ অঞ্চলে স্থানীয় হাট-বাজারে চালান দিচ্ছেন। বিভিন্ন মোকাম থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বড় শহরগুলোতে ফলের চালান আসার পর সেখান থেকে তা চলে যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ ছোট-বড় হাট-বাজারগুলোতে।
জ্যৈষ্ঠ মাস পেরিয়ে আষাঢ় শুরু হয়ে গেছে। সপ্তাহখানেক ধরে দক্ষিণের মোকামগুলোতে আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের যোগান হঠাত্ বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনা মহানগরীর রেলস্টেশন এলাকার হাসান মাহমুদ নামে একজন পাইকারি ফল ব্যবসায়ী জানান, মৌসুমের শেষদিকে এসে এতো ফল-ফলাদির আমদানি আগে দেখিনি। স্থানীয় মোকামের ব্যবসায়ীরা ভরা মৌসুমে উত্তরবঙ্গের মোকাম মালিকদের নিকট থেকে চাহিদামত মাল চেয়ে তার পুরোটা পাননি। আর এবার তারা নিজেরাই চাহিদার কয়েকগুণ মাল নিতে পীড়াপীড়ি করছেন। মাল রাখতে না চাইলে বাকিতেও মাল নিতে সাধাসাধি করতে দ্বিধা করছেন না বলে তিনি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরবঙ্গীয় মোকাম মালিকদের ট্রাক-ট্রাক চালান খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে আসার খবরটির আসল কারণ তারা জানতে পেরেছেন। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে যে সব ফলের চালান ট্রাকে করে ঢাকায় যাচ্ছে সেগুলোতে কার্বাইড কিংবা ফরমালিন আছে কি-না তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ জন্য ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে প্রহরা বসিয়ে ফলের চালানগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাতে প্রায় একশ’ ভাগ চালানের ফলে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। ফরমালিনযুক্ত হাজার হাজার মণ ফল ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। এতে মোকাম মালিকদের আম-ছালা দুই-ই যাচ্ছে। এ কারণে মোকামের মালিকরা তাদের ফলের চালান ঢাকায় না পাঠিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোকাম ও ব্যবসায়ীদের নিকট পাঠাচ্ছেন।
খুলনা বড়বাজারের একজন পাইকারি ফল ব্যবসায়ী জানান, কম দামে এবং বাকিতে ফল পাওয়ার কারণে ওই বাজারের অনেক ব্যবসায়ী অনুরোধের ঢেঁকি গিলছেন। একইভাবে তারাও খুলনা মহানগরীসহ দক্ষিণের ছোট-বড় খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট তুলনামূলক কম দামে তা বিক্রি করছেন। এভাবে এসব ফল গ্রামের হাট-বাজারগুলোতেও পৌঁছে যাচ্ছে। দাম অন্য বছরের তুলনায় কম হওয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন প্রচুর। শহরের মানুষের মধ্যে এসব ফল কেনার প্রবণতা কিছুটা কম থাকলেও গ্রামের মানুষরা তা কিনছেন। দক্ষিণের এ অঞ্চলের বিভিন্নস্থানে ফরমালিন বিরোধী অভিযান চলে মাঝে-মধ্যে। অভিযান নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কোথাও কোথাও ফরমালিন পাওয়া গেলেও অনেক বাজারে ফরমালিন পাওয়া যায় না। দেখা যাচ্ছে, একই এলাকা থেকে আসা ফলের চালানের কোনটিতে ফরমালিন পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোন কোনটিতে যাচ্ছে না।
গত রবিবার খুলনার দৌলতপুর বাজারে অভিযানে প্রায় সব দোকানের ফল-ফলাদিতে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত সোমবার খুলনার একটি বড় ফল বাজারে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে অভিযানে কোন ফরমালিন অথবা কার্বাইডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। খুলনা মহানগরীর সবচেয়ে বড় ফলের খুচরা বাজার হিসাবে পরিচিত ডাকবাংলার মোড়। অভিযানকারীরা ওই বাজারের সব দোকানে আম, লিচু, আপেল, মাল্টা, জামরুলসহ নানা ধরনের ফল পরীক্ষা করে একটিতেও ফরমালিন বা কার্বাইড খুঁজে পাননি।
