ক্ষুদ্র শিল্পে দিন বদলেছে চরাঞ্চলের নারীদের

আপডেট : ২০ জুন ২০১৪, ২২:১৯
হাইমচর উপজেলার নীলকমল এলাকার চরাঞ্চলে বুটিক শিল্পের কাজ করে দিন বদলেছে নারীদের। অবসরে নেই এখন চরাঞ্চলের নারীরা। সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে এখন তারা আলপনা এঁকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। একদিকে সময় কাটানো, অন্যদিকে কাপড়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে নানা আলপনা এঁকে নিখুঁতভাবে নিজেদের শৈল্পিক চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। হাইমচরের নীলকমল চরাঞ্চলে বসবাসকারী নারীরা এখন কাপড়ে নানা কারুকার্য চিত্র তুলে ধরছে। নিখুঁতভাবে তৈরি এসব কাপড় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে। স্থানীয়রা জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এই এলাকায় এসে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মালের জন্য অর্ডার দিচ্ছেন। হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের অন্তত ৪ শতাধিক পরিবার এই কাজের সাথে জড়িয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। একজন নারী কারুশিল্পী জানান, তিনি এক সময় সংসারের অভাব অনটনে স্বামী-সন্তান নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। বছরে মাত্র দুই মাস তার স্বামী জেলের কাজ করতো। বাকি সময় অবসর কাটাতো। এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উত্সাহে বুটিকের কাজে যোগ দেয়ার পর এখন তার সংসারের সচ্ছলতা অনেকটা ফিরে এসেছে। সন্তানদের লেখাপড়া করাতে শুরু করেছেন। কারুশিল্পী কাউছার ও সুমন বলেন, গত ৭ বছর পূর্বে এ কারু কারখানায় কাজ শুরু করেছি। আমরা অভাব অনটনের কারণে পড়াশুনা করতে পারিনি। এখানে শুরুতে কারখানাটি ছোট থাকলেও এখন অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রথমে বেতন কম থাকলেও এখন আমাদের প্রত্যেকের বেতন ৮ হাজার টাকা করে। এ কাজের উদ্যোক্তা সাউদ বলেন, চরাঞ্চলে এক সময় কোন প্রকার শিল্প-কারখানা ছিলো না। এখানকার লোকজন বেশিরভাগ সময় কৃষি কাজ করতো। বাকি অবসর সময় কোন কাজ না থাকায় অনেক অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়তো। আমরা এ কাজের উদ্যোগ নেয়ায় এখন প্রায় ৩শ’ থেকে ৪শ’ পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই এলাকার ছেলে-মেয়েদের এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করতে হয় না। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দে জানান, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে রাজধানী ছেড়ে একেবারে গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র উদ্যোগক্তারা বিনিয়োগ শুরু করেছে এবং এই এলাকায় এখন বহু কারু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে।