সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়াতে কলকাতায় ঢোকার পর দুটি ব্যবসায় টাকা ঢেলেছেন নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের মূল অভিযুক্ত নূর হোসেন। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মাছের ব্যবসায় টাকা ঢালা হয়েছে। কোথায় সেই টাকা ঢালা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর কমিশনারেটের এ টি এস-এর তদন্তকারী অফিসাররা। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে দ্বিতীয় আর কোন্ ব্যবসায় টাকা ঢেলেছেন নূর হোসেন।
জেরায় জানা গেছে, খুব দ্রুত কলকাতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলার পরিকল্পনা ছিল নূরের। সে মত স্থানীয় দুষ্কৃতকারী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছিলেন। যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে। পাশাপাশি আরো নতুন কয়েকটি ব্যবসায় টাকা ঢালারও পরিকল্পনা ছিল।
জেরায় তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, এই সব ব্যবসায় টাকা ঢালার জন্য নূর হোসেন হুন্ডি মারফত আরো টাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে আনতে চেয়েছিলেন। এর জন্য যোগাযোগ করছিলেন হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। কোন্ কোন্ হুন্ডি ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে টাকা আনতে নূর যোগাযোগ করছিলেন তা জানতে তদন্ত করছেন বিধাননগর কমিশনারেটের এ টি এস-এর গোয়েন্দারা। বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি এই কাজের জন্যই কি নূরের ঘন ঘন সীমান্তে যাওয়া? খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০০৮ সালে কলকাতায় গ্রেফতার হওয়ার আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ায় বিরাট একটি ভেড়ি কিনে মাছের ব্যবসা শুরু করেছিল। সুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর সেই ভেড়ি তার হাতছাড়া হয়। নূরও টাকা ঢেলেছেন মাছের ব্যবসায়। সুব্রত বাইনের ব্যবসায় নূর টাকা ঢেলেছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে প্রয়োজনে এনিয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে জেরা করা হতে পারে সুব্রত বাইনকে।
গোয়েন্দারা তদন্তে জানতে পেরেছেন, কলকাতায় এসে নূর বারে বারে ছুটে যেতেন বেনাপোল সীমান্তে। যোগাযোগ করতেন নারায়ণগঞ্জের কিছু লোকের সঙ্গে। কেন? আরো বড় মাপের কারো কি কলকাতায় চলে আসার কথা? নূরকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। যদিও তদন্তকারী অফিসারদের ভুল তথ্য দিয়ে মাঝেমধ্যেই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নূর। জেরার সময় নিজে নিজেই বলে যাচ্ছেন সেভেন মার্ডারের কথা। জানা গেছে, নূর জেরার সময় সেভেন মার্ডারে জড়িত কয়েক জনের নাম বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে সেই নাম এখনই প্রকাশ করতে চান না গোয়েন্দারা। শুধু এটুকুই বলেছেন, সেসব নাম প্রকাশিত হলে অনেকেরই অস্বস্তি বাড়তে পারে।
বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, নূরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ কবে কলকাতায় আসবে তা জানা যায়নি। ভারতের স্বরাষ্ট্র দফতর মারফত তারা এলে নূরকে শনাক্ত করার বিষয়ে তারা সাহায্য করবেন। তাতে তাদেরও তদন্তে আরো সুবিধা হবে। নূর হোসেনের বিষয়ে অনেক অজানা তথ্য তারা জানতে পারবেন। সেই মত পরবর্তিতে জেরা করতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গে কোথায় কোথায় নূরের সঙ্গীরা লুকিয়ে রয়েছে তা খুঁজে বের করতে পারবেন।
