আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২১:০০
কাউনিয়ার অদম্য মেধাবীরা দারিদ্র্যতাকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে এলাকাবাসীকে অবাক করে দিয়েছে। ওরা আঁঁধার ঘরে যেন এক চিলতে চাঁদের আলো। ওরা কেউ দিনমজুর, বাসের হেলপার, কৃষি শ্রমিকের সন্তান। অভাব ওদের নিত্যসঙ্গী, তবুও থেমে যায়নি ওরা। হার মানেনি দারিদ্র্যতার কাছে। দর্জির মেয়ে লতা রানী পেয়েছে জিপিএ-৫ কাউনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে লতা রানী দাস। তার ইচ্ছে লেখাপড়া শেষ করে সে ডাক্তার হবে। লতার বাবা অমল চন্দ্র দাস জানান, নিজের সম্পত্তি বলতে বসতভিটার ৪শতাংশ জমি। আয়ের উত্স দর্জির কাজ করে দিন শেষে যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে চলে ৫ জনের সংসার। লতা ছোটবেলা থেকে কঠোর পরিশ্রম করে আজ এই ফল পেয়েছে। কিন্তু এরপর কি তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিভে যাবে ? উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মৌসুমী আক্তার কাউনিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়েছে মৌসুমী আক্তার। উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের বাসের হেলপার মোফাজ্জল হোসেন এবং আমেনা বেগমের কন্যা সে। দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করে এসএসসি পাস করলেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় মৌসুমী। মা আমেনা বেগম জানান, মেয়ের স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হবার, কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কিভাবে তা সম্ভব। তিনি মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছে কাঠমিস্ত্রি কন্যা ফারজানা আক্তার কাঠমিস্ত্রির কন্যা ফারজানা প্রমাণ করেছে ইচ্ছা আর অধ্যবসায় থাকলে সাফল্যের শীর্ষে ওঠা সম্ভব। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। হরিশ্বর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আলম মিয়া ও মা রাশেদা বেগমের কন্যা সে। নিজস্ব বসতভিটা বলতে কিছুই নেই অন্যের জায়গায় বসবাস। বাবার সামান্য আয়ে পড়াশুনা ও সংসার চলে না। অভাবের সংসারে পড়াশুনার খরচ জোগাতে সে প্রাইভেট পড়ানো ও কুটির শিল্পের কাজ করতো। ফারজানার মা জানান, তার মেয়ের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু তার পিতার পক্ষে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। ভাল কলেজে পড়ার স্বপ্ন মোস্তাফিজুর রহমানের মোস্তাফিজুর রহমান শিবরাম আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসেন স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে উপজেলার আরাজি হরিশ্বর হতদরিদ্র কৃষক আবু তালেবের ছেলে। অভাব ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে পদদলিত করে ভালো কলেজে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমান। মা পারভিন বেগম ছেলের সাফল্যে খুশি হলেও ভবিষ্যত্ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ছেলে লেখাপড়া শেষ করে ডাক্তার হতে চায় বলে জানিয়েছেন তার মা।