ভোলার সাথে বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইলিশা নদী তীরে স্থাপিত ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস ফেরি স্বল্পতা, গ্যাংওয়ে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ভোলার ইলিশা হতে লক্ষ্মীপুর জেলার মজুচৌধুরির হাট পর্যন্ত ফেরি সার্ভিসের মেঘনার রুট পাড়ি দিলেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলার সাথে সহজেই সড়ক যোগাযোগ এখন আর স্বপ্ন নয়। কিন্তু এ রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন চলাচল করলেও ফেরি স্বল্পতার কারণে বহু যানবাহন দিনের পর দিন আটকা পড়ে। ফেরিঘাটে কোন টার্মিনাল না থাকায় ও টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় আটকে পড়া ড্রাইভার শ্রমিক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিকে ফেরি ঘাটের গ্যাংওয়েটি নিচু থাকায় বিশেষ করে বর্ষাকালে জোয়ারের পানিতে ডুবে গেলে গাড়ি ওঠা নামায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়, যাত্রীদের নৌকা দিয়ে পন্টুনে উঠতে হয়। বিআইডব্লিউটিসির ভোলা-লক্ষ্মীপুর সার্ভিস ম্যানেজার আবু আলম বৃহসপতিবার সরেজমিন পরিদর্শনের সময় জানান, বয়া, বিকন বাতি, নাব্যতা সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। যে গ্যাংওয়েটি স্থাপন করা হয়েছে তা সুরক্ষিত নয়। বার বার জোয়ারে ডুবে যাচ্ছে। জোয়ারের সময় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইজারাদারসহ তদারককারী বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারীদের পাওয়া যায় না। এদিকে অপেক্ষমাণ বিভিন্ন ট্রাক ড্রাইভার জানান, তাদের প্রয়োজনে ঘাটে দুই দিন অবস্থান করতে হয়। টয়লেটের কোন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ে। ম্যানেজার জানান, এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের অফিস বরিশাল থাকায় এ ব্যাপারে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ম্যানেজার জানান, ছোট্ট পন্টুনে দুটি ফেরি পাশাপাশি ভিড়তে পারে না। প্রচণ্ড জ্যাম হয়। তার উপর বরিশাল মজু চৌধুরির হাটগামী লঞ্চ ও সিট্রাকও পল্টুনে জটলা সৃষ্টি করে। পাশেই আরেকটি পল্টুন ও গ্যাংওয়ে করার জায়গা রয়েছে। সেখানে আরেকটি পল্টুন স্থাপন করলে ঘাটের জটলা কমে যাবে। এ ব্যাপারে অবশ্য কোন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানা যায়নি। বর্তমানে নাব্যতা সংকট কম থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে রহমতপুর চ্যানেলসহ কয়েকটি স্থানে ডুবো চর থাকায় ফেরিগুলো আটকা পড়ে। এক সপ্তাহ আগে ডুবো চরে একটি ফেরি প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে ছিল। এ রুটটি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এখানে ডুবো চর ড্রেজিং প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া ডুবো চরের কারণে অনেক পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করে। ফলে দেড় ঘণ্টার পথ ৩ ঘণ্টায় পার হতে হয়। কনকচাঁপা ফেরির মাস্টার জানান, এ রুটে অনেক সমস্যা রয়েছে। এগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
সামনে রমজান ও ঈদ। প্রতি ঈদে ভোলাসহ ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এরুটে আসা যাওয়া করে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সংখ্যা হয় দ্বিগুণ। সেসময় ফেরি ও সিট্রাক স্বল্পতার কারণে ঘরমুখো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দেয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ভোলা-লক্ষ্মীপুর ২৮ কি.মি. রুট তখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। এলাকাবাসী মনে করেন, ফেরি ঘাট সংস্কার, ড্রেজিং করাসহ ঈদ মৌসুমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। কারণ বর্ষা মৌসুমে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের মেঘনাকে ডেঞ্জার জোন ঘোষণা করে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
