ব্রাজিলের নতুন কৌশল

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২২:৫৪
আপাতত লক্ষ্যটা ফাইনাল খেলার, মনের মধ্যে বিশ্বজয়ের স্বপ্নটাও আছে। ফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসাবে চায় আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু ম্যাচের ফলাফলে তার ছাপ কোথায়! মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর ব্রাজিলীয়রা এখন অনেকটাই চুপসে যাচ্ছে। ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচেও তাই ‘তীব্র’ সতর্কতা নিয়েই মাঠে নামবে ব্রাজিল। দ্বিতীয় পর্বে ওঠার রাস্তায় বড় কোন বাধা না থাকলেও পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে ব্রাজিল শিবিরকে। কিভাবে চাপমুক্ত থাকা যায় তা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট আঁকছেন নানারকম ছক। দলকে উদ্বুদ্ধ করতে সফল ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে অনুশীলন ক্যাম্পে। সমর্থকরাও ভাবছেন ব্রাজিল দলকে নিয়ে। শুভেচ্ছা ও খেলায় আরও মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ জানিয়ে ব্রাজিল ফুটবল দলের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ছয় হাজার চিঠি। কোনটায় আছে জ্বলে ওঠার আহবান, কোনটায় আছে তীব্র ক্ষোভ। ফর্মেশন কিংবা খেলার স্টাইল নিয়েও কথা বলেছেন কেউ কেউ। দল গঠনের প্রক্রিয়াও উঠে এসেছে চিঠিগুলোতে। ভাষা যাই হোক না কেন, সব চিঠিই শেষে এসে মিলেছে একই সমীকরণে - ‘বিশ্বকাপ জয়!’ ব্রাজিল দলও চিঠিগুলোকে সমর্থকদের ভালবাসা হিসেবেই দেখছে। চিঠির জবাবে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ডেভিড লুইজ যেমন বলেই দিলেন, ‘দেশ প্রেম নিয়ে কেউ আশংকা করলে সেটা ঠিক হবে না। কনফেডারেশন কাপ জয় আর বিশ্বকাপ ফুটবল, দুটো এক জিনিস না। সমর্থকদের ভালবাসা আমরা বুঝি। চাই সেই ভালবাসার প্রতিদান দিতে।’ চিঠির জবাবে স্ট্রাইকার ফ্রেড বলেছেন, ‘আমরা শুধু দর্শকদের চিঠিই পড়ছি না। টিমগুলোকেও পড়ে নিচ্ছি। আমরা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। আমরা জানি কতটুকু দায়িত্ব আমাদের আছে।’ মেক্সিকোর বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের পর দলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণ-মাধ্যমগুলোও। রক্ষণাত্মক ধরনের ফুটবলের সমালোচনা করেছেন তারা। শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকা লিখেছে, ‘১৯৫০ বিশ্বকাপ ফুটবলে ফাইনালে গিয়েও হেরে গিয়েছিল ব্রাজিল। কেঁদেছিল দর্শক। আজ আবার ৬৪ বছর পর নিজেদের মাঠে খেলা। স্পেন ইংল্যান্ড স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ব্রাজিলকে, কী করতে হবে।’ ব্রাজিল অবশ্য গণমাধ্যমের চাপ নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইছে না। ফ্রেড যেমন বললেন, ‘এটা বিশ্বকাপ, আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এখানে খেলাটা এতো সহজ হবে না। ক্যামেরুনকে আমরা জানি। ওদের আছে কোয়ালিটি, ওরা শক্তিশালী দল। আমরা প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা করি। আমরা মাঠে যাবো আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।’ বিশ্বকাপটা এবার বড় দলগুলোর জন্য হতাশা নিয়েই এসেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিদায়, সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিদায়। ব্রাজিলের ভাগ্যে কি লেখা আছে সেটা নিয়ে তাই চিন্তিত কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারি। চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচ আগামীকাল। টানা অনুশীলন চললো। মাঝে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন ডেভিড লুইজ ও মার্সেলো। ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ম্য্যাচের খেলোয়াড়দের চাঙ্গা করতে বেস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন ব্রাজিলের অনেকেই। গোলকিপার হুলিও সিজার ছাড়া বাকি সবাই শুক্রবার দেড় ঘন্টা টেকনিক্যাল টেনিং সেশন করেছেন। সাবেক বিখ্যাত ফুটবলার ও বর্তমান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা, জাতীয় দলের আরেক সাবেক ডিফেন্ডার রক জুনিয়র, দুজন জাতীয় দলের সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় বার্নাড এবং মার্কোসরা ছিলেন। সবাই মিলে বিশ্বকাপ জয়ের ‘কৌশল’ নিয়ে কথা বললেন! সবাই এক সাথে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করলেন ব্রাজিলকে। এদিকে শনিবার সকালে অনুশীলন বাতিল করেছেন কোচ স্কোলারি। বিকালে সেব ক্যাম্প ছেড়ে ব্রাসিলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ফুটবলের আগে ব্রাজিলীয়রা খেলা নিয়ে এতোটা মাথা ঘামায়নি। খেলাটা শুরু হওয়ার পরই যেটা নিয়ে ভাবনা বেড়ে গেছে তাদের। রাস্তায় পথে চলতে গেলে ব্রাজিলের নাগরিকরা ফুটবল নিয়ে কথা বলেন। দর্শকদের মনোভাব, খেলোয়াড়দের মনেভাব তারা জানেন। দর্শকদের রাগ ক্ষোভের প্রকাশের কারণটাও তাই অনুমান করা যায়। চেলসির ফুটবলার ডেভিড লুইস আরো যুক্তি তুলে ধরলেন, ‘আমরা যদি গ্রুপ পর্বে ৩-০ গোলে ম্যাচ জিতি, আর দ্বিতীয় পর্বে যদি ১-০ গোলে হেরে বাড়ি ফেরত আসি- তাহলে কি সেটা ভাল হবে? প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। দ্বিতীয় রাউন্ড নয়, আমরা চাই বিশ্বকাপ।’ ক্ষোভ, হতাশা যাই থাকুক না কেন, গোটা ব্রাজিলের চাওয়াটাও এমনই!