বেতন-বোনাস নিয়ে অসন্তোষের ঝুঁকিতে এক হাজার কারখানা

আপডেট : ২১ জুন ২০১৪, ২২:৫৬
আসছে ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারে অন্তত ১ হাজার গার্মেন্টস কারখানা। গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র হিসাবে এই সংখ্যা কেবল সংগঠনটির সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্য থেকে জরিপের ফল। এর বাইরে বিকেএমইএ ও এই দুই সংগঠনের সদস্য নয় এমন কারখানাও রয়েছে। সব কারখানা নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ও একটি তালিকা তৈরি করছে। এসব কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে বড় আকারের শ্রম অসন্তোষে রূপ না নেয় তা নিয়ে সতর্ক সরকার ও মালিক পক্ষ। সমপ্রতি এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের এ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে একাধিক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ওই সব কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া রমজানের শুরু থেকে শ্রমিক নেতাদের সাথেও নিয়মিত বৈঠক করা হবে। বিজিএমইএ’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এসব বৈঠকে বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি। যোগাযোগ করা হলে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, বিজিএমইএ প্রায় ১ হাজার কারখানার তালিকা করেছে যেগুলোতে বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিয়ে ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এসব কারখানাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ’র নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পহেলা রমজান থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। এছাড়া ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ শ্রমিক অধ্যুষিত ও অসন্তোষপ্রবণ এলাকার সংকট তাত্ক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৫টি টিম কাজ করবে। প্রতিটি টিমের নেতৃত্বে থাকবেন বিজিএমইএ’র একজন করে পরিচালক। এদিকে সামপ্রতিক সময়ে বেশকিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিজিএমইএ’র হিসাবে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে কাজ না পাওয়া, কারখানায় কমপ্লায়েন্সের (কর্মপরিবেশ) অভাবসহ নানামুখী সংকটে পড়ে ১৭৬টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক কারখানার শ্রমিককে যথাযথ পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এসব শ্রমিক তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রায়শই রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনের সামনে হাজির হচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও দেনদরবার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদের আগে বেতন-ভাতার দাবিতে তারাও আন্দোলনে নামতে পারে। অন্যদিকে সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বা অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত কোন নীতিমালা এখনো না হওয়ায় সেখানেও শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। সমপ্রতি কয়েকটি কারখানায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনাও ঘটেছে। এর শিকার হচ্ছেন কারখানার মধ্যম স্তরের কর্মকর্তারা। গত মঙ্গলবার সাভারের ডায়নামিক সোয়েটার এর কর্মকর্তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক পিটিয়ে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত সমাহার সোয়েটার কারখানায়ও এক কর্মকর্তাকে কর্মরত অবস্থায় একদল শ্রমিক মারাত্মক আহত করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে শ্রমিকদের এসব ছোট-খাট অসন্তোষকে পুঁজি করে বড় আকারের অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিজিএমইএ’র সদস্য বহির্ভূত প্রায় ১২শ’ কারখানার মধ্যে বেশ কিছু কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ৪ হাজার ৩শ’ কারখানার মধ্যে চালু রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩শ’ কারখানা। এর বাইরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্যভুক্ত কারখানা রয়েছে আরো প্রায় ১ হাজার। গত ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মত বর্ধিত নতুন মজুরির হিসাবে এসব কারখানাকে আসছে ঈদে বোনাসও দিতে হবে। অন্যদিকে বেশিরভাগ কারখানাই পরবর্তী মাসের ৭ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু আসছে রমজানের ঈদ হবে জুলাই মাসের শেষ দিকে। এই সময়ে অনেক কারখানার শ্রমিক আগাম মজুরির দাবিতে অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে। ছোট ও মাঝারি মানের অনেক কারখানার পক্ষে যেখানে মূল মজুরি ও বোনাস পরিশোধ করা কঠিন সেখানে আগাম মজুরি পরিশোধ আরো কঠিন হবে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে শ্রম অসন্তোষ হয় কি না তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ গার্মেন্টস উদ্যোক্তাদের কপালে। বিজিএমইএ’র হিসাবে, শতভাগ কারখানায় সরকার ঘোষিত ৫ হাজার ৩শ’ টাকার ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন হয়েছে। যদিও সরকারের হিসাবে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৮ শতাংশ কারখানায়।